দঃ কোরিয়া থেকে চিকিৎসা সহায়ক সামগ্রী নিয়ে আকাশ পথে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সি-১৩০জে পরিবহন বিমান।

বিডিনিউজ প্রতিদিন: বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস কোভিট-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যখন টালমাটাল অবস্থা বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। উন্নত দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে কোভিট-১৯ প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারই ধারাবাহিক কার্যক্রম হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সহায়ক সামগ্রী নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সি-১৩০জে পরিবহন বিমান।

এর আগে বুধবার (১৭-০৬-২০২০) বিমান বাহিনীর ১৫ জন এয়ার ক্রূ দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশ্যে বিমান বাহিনী ঘাঁটি বঙ্গবন্ধু, ঢাকা ত্যাগ করেছিলো। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার কমডোর সৈয়দ সাইদুর রহমান, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জিডি(পি) দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মিশন সুসম্পন্ন করার জন্য বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, বিবিপি, ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসি প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী করোনাভাইরাস প্রতিরোধকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক নির্দেশনায় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত নীতিমালা অনুসরণ করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এর প্রতিরক্ষা শাখার উদ্যোগে ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় কিছু বেসরকারী প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় কীট, মাস্ক, নেগেটিভ প্রেশার মেশিন এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা (পিপিই) সহ অন্যান্য চিকিৎসা সহায়ক সামগ্রী সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের ডিফেন্স উইং প্রধান কাজী শফিকুল হাসান।

বাংলাদেশকে ভালবাসে এমন কয়েকজন মানবিক কোরিয়ান ব্যাবসায়িবৃন্দ , প্রাইম ট্রাভেলস ও জাফরানের কর্ণধার আবু বকর সিদ্দিক রানা এবং কোরিয়ান ব্যবসায়ী মি. জিন , মি. হোয়া যৌথভাবে বেশ কিছু চিকিৎসা সহায়ক সামগ্রী ডিফেন্স উইং প্রধান কাজি শফিকুল হাসানের কাছে তুলে দেন। এসকল চিকিৎসা সহায়ক সামগ্রী সংগ্রহের নিমিত্তে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমান দক্ষিণ কোরিয়ায় এসে অবতরণ করেন স্থানীয় সময় রাত ১১ টায়। এ সময় ডিফেন্স উইং প্রধান কাজী শফিকুল হাসান এর নেতৃত্বে একটি টিম এয়ারপোর্টে তাদের সংবর্ধনা জানান ও রাতে সিউলের অভিজাত জাফরান রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথিদের এক সংবর্ধনা দেন কাজি শফিকুল হাসান ও তার সহধর্মীনী মিসেস ফারহানা সুলতানা রুপা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কাজি শফিকুল হাসান বলেন , আজ দক্ষিণ কোরিয়া এক অনন্য ইতিহাস তৈরি হলো,  এই প্রথম রাস্ট্রীয় পতাকাবাহী কোন বিমান বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় আগমনের মধ্য দিয়ে। অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন স্বনামধন্য কোরিয়ান ব্যাবসায়ীগন , আবুবকর সিদ্দিক রানা ও তার সহধর্মীনী মাহবুবা খাতুন তিমা ও বাংলাদেশ দূতাবাসের কয়েকজন কর্মকর্তা।

কাজী শফিকুল হাসান সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগদান করার বছর খানেকের মধ্যেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সিউল লট্টে হোটেলের বল রুমে প্রথম বারের মতো দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পারস্পরিক বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করতে এরইমধ্যে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালন করছেন।

উল্লেখ্য যে, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ কর্তৃক ‘In Aid to Civil Power’ এর আওতায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধকল্পে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জরুরী বিমান পরিবহন এবং মেডিক্যাল ইভাকোয়েশন (MEDEVAC) সহায়তা প্রদান করছে।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের প্রসংশনীয় উদ্যোগ বর্তমান বিশ্বে একটি রোল মডেল। নাগরিক সচেতনতায় অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করায় খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছেন বৈশ্বিক মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস কোভিট-১৯।

বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অকৃত্রিম সহায়তার জন্য বন্ধুত্বের নিদর্শন স্বরুপ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কিছু শুভেচ্ছা সামগ্রী প্রদান করেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ রাতেই বিমান বাহিনীর উক্ত পরিবহন উল্লেখিত চিকিৎসা সামগ্রীসহ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সি-১৩০জে বিমানটি আগামী ১৮-০৬-২০২০ তারিখে দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

সিউল ডেস্ক রিপোর্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*