নিজের মুখোমুখি আমি

রাশেদুল ইসলাম,

হটাৎ করেই নিজের মুখোমুখি আমি ।
লকডাউনের ভয়ঙ্কর মুহূর্ত যেন !
সবাইকে ফাঁকি দেওয়া যায়; কিন্তু, নিজেকে নয় ।
তাইতো নিজের মুখোমুখি হতে চায়না কেউ ।
আমিও চাইনি । কিন্তু, মনের উপর কি নিয়ন্ত্রণ আছে আমার ?
যদি থাকতো, শুধু সুন্দর স্মৃতিগুলো নিয়েই কাটিয়ে দিতাম সময়।
কিন্তু তা সম্ভব নয় ।
তাই একান্ত অনিচ্ছায় বাধ্য হই;
ফিরে তাকাই পিছনে ।
দেখি ভুলে ভরা গোটা জীবন আমার ।
দেখি জীবনটা হয়ে গেছে বাংলাছবির নায়কের মত-
যার সারাজীবনই কাটে এক ভিলেনকে তাড়া করে ।
ডানেবায়ে আর কিছু দেখা হয়না তার ।
আমার জীবনটাও হয়েছে তাই ।
একটা তেলাপোকার মত বেঁচে থাকা যেন;
কারো কোন কাজে লাগা নয় ।
না সংসার, না সমাজ, – না দেশের ।
এ এক কীট –পতঙ্গের জীবন যেন !
কবি জন মিলটনের এ রকম সমস্যা হয় তেইশে; ,
মাত্র তেইশ বছর বয়সে ।
এ বয়সে তাঁর মনে হয়েছে,
কিছুই করা হয়নি তাঁর ।
কিন্তু, সময় ছিল তাঁর হাতে ।
বাকি ৪৬ বছর সময় পান তিনি ।
অন্ধ হয়েও ‘প্যারাডাইজ লস্ট’ নামের
এক মহাকাব্য রচিত হয় তাঁর ।
ছেষট্টি বছর বয়সে মারা যান তিনি ।
কিন্তু আমি ?
আমার বয়স এখন আটান্ন ।
সময় হাতে আর আছে কি ?
যদি থাকেই বা, কত হবে ?
বড় জোর এক দশক ?
আরও দু’এক বছর পাব কি ?
যদি তাই হয়; কিছু করা যাবে কি ?
যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে আগে,
তার কি হবে ?
যেগুলো অপূরণীয় নয়,
দেরীতে হলেও করা যেতে পারে কিছু ।
কিন্তু যদি সময় না থাকে !
যদি এখানেই শেষ হয়,
‘জীবনের সব লেনদেন’ !
তাহলে ?
এই হতাশাই কি
জীবনের শেষ কথা হবে ?

ঢাকা, ১৯ মে, ২০২০ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*