শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস পালিত

বিডিনিউজ২৪: শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে আজ ১৩ ডিসেম্বর সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন মিলনায়তন, ঢাকায় ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অভ্যুদয় শীর্ষক আলোচনা সভা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এস এ মালেকের সভাপতিত্বে ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মতিউ রহমান লাল্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখে,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ ফায়েকুজ্জামান, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকুল আরেফিন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শফিকুর রহমান, জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রভিসি অধ্যাপক ড. ফরহাদ হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. প্রিয়ব্রতপাল, নেপালের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপ ড. ফিরোজ আহমেদ, খুলনা প্রকৌশলী বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোস্তফা সরওয়ার প্রমুখ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস বাঙালি জাতির জীবনে একটি ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় দিন। মহান বিজয় অর্জন আমাদের গৌরবের ও আত্মমর্যাদার দিন। আমাদের স্বাধীনতা অর্জন সহজতর ছিল না। এই জন্য আমাদের অনেক রক্ত ঝড়েছে, অত্যাচার, নির্যাতন, শোষন-বঞ্চনার স্বীকার করতে হয়েছে। পাকিস্তানী স্বৈরাচারী শাসকদের শোষন, বৈষম্য ও অত্যাচারের হাত থেকে বাঙালি জাতিকে চির মুক্তির জন্যই বঙ্গবন্ধু ২৪ বছরের আন্দোলন সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধু সব সময় বাঙালির কথা চিন্তা করতেন। বাঙালি জাতি উন্নত জীবন পাবে, সুখে স্বাচ্ছন্দে বসবাস করবে, পরধীনতা থেকে চির মুক্তি পাবে এটিই ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নদর্শন। তিনি দুঃখী ও মেহনতী মানষের প্রতি গভীর মর্যাদা দিতেন। আমাদের স্বাধীনতা লাভের মাত্র দুদিন আগে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যার উদ্দেশ্য ছিল যাতে স্বাধীন দেশ নেতৃত্বশূন্য ও মেধাশূন্য হয় ও ভবিষ্যতে আর দেশটি সঠিকভাবে পরিচালনা হতে না পারে। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত বলেন, বঙ্গবন্ধু তার জীবন দশায় অনেকগুলো মতবাদের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন। তিনি সমাজতন্ত্র, পুঁজিবাদ, ফ্যাসিবাদ, উপনিবেশিক শাসনের ভাল-মন্দ, সাফল্য-ব্যর্থতা, উত্থান-পতন সব কিছুর তীক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর দর্শনের মূল বিষয় ছিল সবার উপরে মানুষ সত্য। তিনি সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের কাজ করেছিলেন। অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আদর্শ, ন্যায়ভিত্তিক, শোষন-বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্যই তিনি দীর্ঘ ২৪ বছরের বেশী সময় পাকিস্তানের সামরিক জানতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। তিনি দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিলেন শুধুমাত্র বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে। তিনি সময় পেলে অবশ্যই তার এই দর্শন পৃথিবীর সেরা অর্থনৈতিক মতবাদ হিসেবে স্থান পেত। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে অবশ্যই ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দুর এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার সাধন করা দরকার।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. খায়েকুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার স্বপ্ন ও মূল্যবোধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর ২৪ বছরের সংগ্রাম এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। এই স্বাধীনতা সংগ্রামে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সেই সকল বীরদের ত্যাগ, তিতীক্ষা ও রক্তের প্রতি আমরা যথার্থ সম্মান জানাবো। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, পৃথিবীতে যতগুলো মতবাদ এসেছে, বঙ্গবন্ধুর মতবাদও  সম্মান মর্যাদার দাবী রাখে। মুজিববাদ যে আদর্শের ধারনা দেয়, এটা বাস্তবতা পেলে অবশ্যই মানবকল্যাণে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে। বাংলাদেশে যত আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে এর নেতৃত্বে ছিল আওয়ামী লীগ। সেই আওয়ামী লীগে এখন স্বাধীনতা বিরোধীরা ঢুকে পড়েছে। এই অনুপ্রবেশকারীরা দলের ক্ষতির কারণ। দলে যে শুদ্ধি অভিযান চলছে তা অব্যাহত রাখতে হবে। দুষ্কৃতকারীদের দল থেকে বের করে দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডাঃ এস এ মালেক বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন থেকে আমাদের সকলের শিক্ষা নেওয়া উচিত। বঙ্গবন্ধু জাতীয়তাবাদী ও বিপ্লবী মহান নেতা ছিলেন। তার জীবনের ২৪ বছরের আন্দোলনের ফসল আমাদের আজকের বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু ভাবতেন স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে পড়বে, যদি বাংলার সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি না আসে। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন ছিল অন্যতম সেরা দর্শন। বিশ্ব বাস্তবতার নীরিক্ষে তিনি সমসাময়িক বাস্তবতার পরিপেক্ষিতে রাজনৈতিক বাস্তবাতা ও অর্থনৈতিক উত্থান-পতনের যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে একটি মতবাদ প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে এবং ওই কর্মসূচি বাস্তবায়িত করতে পারলে তবে সেটি হতো বিশ্বের সেরা মতোবাদ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলবো আর দুর্নীতি করবো এটা হতে পারে না। আসুন দুর্নীতিকে না বলি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ি। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে এবং তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক মুক্তির যে সংগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে, সেই কর্মযজ্ঞে আমরা সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ি।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ড. লিয়াকত হোসেন মোড়ল, মোঃ শহিদুল্লাহ, আব্দুল মতিন ভূইয়া, এডভোকেট দিদার আলী, মোঃ আলাউদ্দিন, মোঃ নেছার আহম্মদ ভূইয়া, শাখাওয়াত ইসলাম ভূইয়া খোকন, এ কে শামসুদ্দিন খাজা, প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, আবুল হোসেন, মোঃ আজিজুল হক, তারেক ইমতিয়াজ প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*