হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

বিডিনিউজ প্রতিদিন: আজ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বিশ্ববিদ্যালয়/বঙ্গবন্ধু হোমিওপ্যাথি বিশ্ববিদ্যালয় (প্রস্তাবিত) এর উদ্যোগে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তন (২য় তলা), তোপখানা রোড, ঢাকায় ‘হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা-” শীর্ষক এক সেমিনার প্রধান উদ্যোক্তা ডাঃ সাখাওয়াত ইসলাম ভ্ঞূা এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশ জনসংখ্যা বহুল দেশ। কম আয়তনে এদেশে বেশি মানুষ বসবাস করে। আমাদের দেশের মানুষ দরিদ্রগ্রস্থ হওয়ায় উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে এখনও বঞ্চিত। তবে এ কথা ঠিক বর্তমান সরকারের যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে।

মানুষের মৌলিক প্রয়েঅজনের অন্যতম হলো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এই জন্য সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের কাছে পৌছে দিতে বদ্ধ পরিকর। আজ চিকিৎসা সেবার অনেক উন্নত হয়েছে, আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও নার্স তৈরীসহ বলা যায় চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এর পরেও হতদরিত্র ও সাধারণ মানুষ অর্থের অভাবে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। বিজ্ঞানের উন্নতি ও প্রসারের ফলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাপক সাফল্য এসেছে। জনগণের গড় আয়ু বেড়েছে। আমাদের দেশে হোমিওপ্যাথিক, এলোপ্যাথিক, আয়ুবেদিক ও ইউনানী প্রভৃতি চিকিৎসা পদ্ধতি চালু রয়েছে। এলোপ্যাথিক চিকিৎসার ব্যাপক উন্নতি হলেও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা আজও অবহেলিত ও বৈষম্যের শিকার।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে এই চিকিৎসা ব্যবস্থার তেমন উন্নয়ন নেই। এই জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাকে আধুনিক, বিজ্ঞান সম্মত ও গবেষণাধর্মী করা দরকার। এ ক্ষেত্রে তিনি একটি হোমিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্বদেন। তবে বিশেষ কোন চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ না করে সার্বজনীন, সমন্বিতভাবে চিকিৎসা পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা দরকার।

প্রধান আলোচক শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেনদারিদ্রতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলা, সচেতনতার অভাব, খাদ্যাভাস, দুষিত প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রভৃতি কারণে মানুষ দিন দিন জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাপক উন্নতি ও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হলেও কিছু কিছু মারাত্মক প্রাণঘাতি অসুখে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ও জীবনহানী ঘটছে। স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম কর্তব্য। কিন্তু আমাদের দেশের জনগণ এই সেবা থেকে অনেকাংশে বঞ্চিত। তিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার সুফল জনগণের মধ্যে পৌছে দেয়ার আহ্বান জানান। এই প্রসঙ্গে হোমিওচিকিৎসার ভালো দিক গুলো জনগণকে জানাতে হবে। তিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাকে জনপ্রিয় করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এস এম ইনামুল হক বলেন, নগণের স্বস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে সমন্বিত স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন ও এর বাস্তবায়ন জরুরী। হোমিও চিকিৎসাকে আধুনিক, বিজ্ঞান সম্মত ও সহজলভ্য করার জন্য এবং গবেষণাধর্মী শিক্ষাপদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। তবেই এই চিকিৎসা জনগণের ব্যাপক উপকার বয়ে আনবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, বুয়েটের সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের ডীন ড. মোঃ আব্দুর রহমান, বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান লাল্টু, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ড. লিয়াকত হোসেন মোড়ল, মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, খাজা শামসুদ্দিন, সুজাত আলী জাকারিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য মোঃ নাসির উদ্দিন, মোঃ আজিজুর রহমান প্রমুখ। এছাড়াও সংগঠনের বিভিন্ন স্থরের নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবীগণ ও চিকিৎসকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*