লিটন ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত

বিডিনিউজ অনলাইন ডেস্কঃ ২০১৮ সালের এশিয়া কাপের কথা মনে আছে তো! সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ওই টুর্নামেন্টে ইনজুরি যেন টাইগারদের পিছু লেগেছিল। চোটের কারণে টুর্নামেন্টের মাঝপথেই বাদ পড়েছিলেন ওপেনার তামিম ইকবাল। সাকিবও ছিটকে পড়েছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে। এরপরও মাশরাফি বিন মুর্তজার অসাধারণ নেতৃত্বে সেবার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটিতে টাইগারদের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। ফাইনালে দলের হয়ে ইনিংস ওপেন করতে নেমে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন লিটন দাশ।

ওই ইনিংস দিয়েই তিনি নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। নিজের দিনে ক্রিকেটের ২২ গজে প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন সেটা এশিয়া কাপের ওই ফাইনালেই প্রমাণ করে দিয়েছিলেন লিটন। যেসব ক্রিকেটারকে বাংলাদেশ দলের ভবিষ্যতের বড় তারকা বলে মনে করা হচ্ছে তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে লিটন অন্যতম। কিন্তু অসাধারণ প্রতিভাবান এই ব্যাটসম্যান মাঝখানে ভুগছিলেন ছন্দহীনতায়। গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাট হাতে আবারো ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন এই ডানহাতি ওপেনার। এ দিন তিনি খেলেন মাত্র ২২ বলে ৩৮ রানের এক টর্নেডো ইনিংস।
তামিম ইকবাল ওপেনিংয়ে বাংলাদেশ দলের আটোমেটিং চয়েজ। ব্যাট হাতে তার সামর্থ্য নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ওপেনার তিনি। গত কয়েক বছর ধরেই ওপেনিংয়ে তামিমের যোগ্য সঙ্গী খোঁজছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। পাশাপাশি তামিমের অবসরের পর টাইগারদের ওপেনিংয়ে তার জায়গাটা কে নেবেন সেটাও একটা বড় প্রশ্ন।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবারই ভাবনার বিষয় এটি। এখন বাংলাদেশ দলে যেসব ওপেনার আছেন তাদের মধ্যে ভবিষ্যতের তামিম হিসেবে ভাবা যায় কেবল দুজনকেই। তারা হলেন সৌম্য সরকার ও লিটন দাশ। সৌম্য অফ ফর্মের কারণে এখন দলের বাইরে আছেন। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারার সমস্যা আছে লিটনেরও।
শুরুতেই গত এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে লিটনের দুর্দান্ত ইনিংসটির কথা
বলা হয়েছে। ওই ম্যাচের দিকেই ফিরে তাকানো যাক। তামিমের অনুপস্থিতিতে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে শিরোপা নির্ধারণী ওই ম্যাচে ইনিংস ওপেন করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের রীতিমতো নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছিলেন লিটন। ওই ম্যাচে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ইনিংস ওপেন করতে নামা মিরাজকে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ১২০ রানের জুটি গড়েন লিটন। ভারতীয় বোলাররা এ দিন লিটনের সামনে যেন পাত্তাই পাননি। ভুবনেশ^র কুমার, জাসপ্রিত বুমরাহ, যুজবেন্দ্র চাহাল ও কুলদ্বীপ যাদবদের তুলোধুনো করে ডানহাতি এই টাইগার ওপেনার তুলে নেন অনবদ্য এক সেঞ্চুরি। লিটন এদিন খেলেন ১১৭ বলে ১২১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। এই ইনিংস খেলার পথে তিনি ২টি ছক্কা ও ১২টি চার হাঁকান। এরপর দীর্ঘসময় নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না ডানহাতি এই ওপেনার। কিন্তু ঠিক সময়ে ঠিকই জ¦লে উঠেন তিনি। দ্বাদশ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ও উইন্ডিজের মধ্যকার ম্যাচের দিকে ফিরে যাওয়া যাক। উইন্ডিজের দেয়া ৩২২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৩৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ দল যখন হারের প্রহর গুণছিল তখন ক্রিজে আছেন লিটন। এটিই ছিল বিশ্বকাপে তার ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ। আর বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচে ঝলক দেখান তিনি।

চতুর্থ উইকেটে সাকিবের সঙ্গে গড়ে তোলেন ১৮৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। এই জুটিতেই ম্যাচটি ৭ উইকেটে জেতে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে লিটন খেলেন ৬৯ বলে অপরাজিত ৯৪ রানের এক ইনিংস। বিশ্বকাপের অবশিষ্ট ম্যাচগুলোতে ঝলক দেখাতে পারেননি তিনি।
বিশ্বকাপের পর ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়ে ফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন হয় লিটনের। ওই ম্যাচে উভয় ইনিংস মিলে তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৪২ রান। এরপর ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেও আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হন তিনি। সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে লিটন করেন ১৯ রান। আর আফগানদের বিপক্ষে তো রানের খাতা খোলার আগেই আউট হন তিনি। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফর্মহীন থাকা লিটন অবশেষে গতকাল ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাগরিকায় এ দিন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্র ২২ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।

লিটনের টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় ২০১৫ সালের জুলাইয়ে। এ পর্যন্ত ২১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ২ হাফ সেঞ্চুরিতে ৪৪৮ রান করেছেন এই ব্যাটসম্যান। তিনি টেস্ট খেলেছেন ১৬টি। যেখানে ৪ হাফসেঞ্চুরিতে করেছেন ৬৬৪ রান। আর ৩৩ ওয়ানডেতে ১ সেঞ্চুরি ও ৩ হাফ সেঞ্চুরিতে তার রান ৭৬৮।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*