বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত

বিডিনিউজ প্রতিদিন: আজ ২৮ আগস্ট ২০১৯, বুধবার বিকাল ৪.০০ ঘটিকায় ৮, কর্মসংস্থান ব্যাংক ভবন,  ঢাকায় স্বাধীনতার মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কর্মসংস্থান ব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও কর্মসংস্থান ব্যাংক অফিসার্স এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী লিটন ও মনোজ রায় সাধারণ সম্পাদক কর্মসংস্থান ব্যাংক অফিসার্স এসাসিয়েশন এর পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম হানিফ এমপি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী, সাহসী এবং ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে এনেছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। বাঙালি পেয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীত। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বঙ্গবন্ধু যখন সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই স্বাধীতাবিরোধী- যুদ্ধাপরাধী চক্র জাতির পিতাকে হত্যা করে। এর মধ্য দিয়ে তারা বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও অগ্রযাত্রকে স্তব্ধ করার অপপ্রয়াস চালায়। অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে ভেঙ্গে ফেলাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। ৭৫ এর ১৫ই আগস্টে পর থেকেই এই জঘন্য হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত স্বাধীনতাবিরোধী চক্র হত্যা, হত্যা ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। ইনডেমনিটি অর্ডিনেন্স জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়। জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে। মার্শাল ল’ জারি করে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করে। দূতাবাসে চাকুরি দেয়। স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের নাগরিকত্ব দেয়। রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার করে। রাজণৈতিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করে। পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকারও একই পথ অনুসরণ করে। ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও তিতিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ বাঙালি জাতির অন্তরে প্রোথিত হয়ে আছে। আসুন, আমরা জাতির পিতাকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে তাঁর স্বপ্ন সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা আতœনিয়োগ করি। ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত, শান্তিপূর্ণ, সমৃধ, অসাম্প্রাদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এ সংগ্রামে আমাদের অবশ্যই জয়ী হতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কর্মসংস্থান ব্যাংক পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান কানিজ ফাতেমা এনডিসি বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতীয়তাবাদী মহান নেতা ছিলেন। দেশ স্বাধীন করার পর যখন দেশ গড়ার কাজে যখন তিনি আত্ম নিয়োগ করলেন, তার মাত্র সাড়ে ৩ বছরের মাথায় স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্রে তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট নির্মমভাবে নিহত হন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। ১৫ই আগস্ট শুধু স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাকেই হত্যা করা হয়নি, ওই দিন শিশু, অন্তসত্তা নারী. ও মহিলাদের হত্যার মাধ্যমে মানবাধিকার, ন্যায় বিচারকে ও আইনের শাসন চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। ঘাতকরা নিষ্ঠুর, পাষা- ও জানোয়ার। তাছাড়া এমন অমানবিক কাজ করা সম্ভব না। দীর্ঘদিন পর হলেও বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসে দেশের প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের বিচার করেছেন, শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর অনেক খুনী বিদেশে পালিয়ে থেকে দেশ বিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। জনতার দাবি উঠেছে দ্রুত ঘাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা। বঙ্গবন্ধু হত্যার পিছনে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র ছিল। যারা প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী, ষড়যন্ত্রকারী, অর্থদাতা, বেনিফিশিয়ারী, অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের চিহ্নিত করা দরকার। তাই দাবি উঠেছে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রকৃত ব্যক্তিদের মুখোশ উন্মোচিত করে জাতির কাছে উপস্থাপন করা।

সভাপতির বক্তব্যে কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু মানুষকে খুব ভালবাসতেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি মানুষের দুঃখ কষ্টে ব্যথিত হতেন। মানুষের বিপদে-আপদে সাহায্যে এগিয়ে আসতেন। অন্যায় দেখলে প্রতিবাদে ঝাঁপিয়ে পরতেন। তিনি বাঙালির অন্তপ্রাণ ছিলেন। বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ ২৪ বছর পাকিস্তানের স্বৈর শাসকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। এই জন্য তাকে প্রায় ১৪ বছর কারাবরণ করতে হয়েছে। প্রতিটি বাঙালি মানুষ আশ্রয় পাবে, খাদ্য পাবে, চাকুরী পাবে, চিকিৎসা পাবে এবং উন্নত জীবনের অধিকারী হবে সেই ভাবনা বঙ্গবন্ধুর মধ্যে ছিল। এই জন্যই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা, আমাদের মহান নেতা হয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান লাল্টু বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতীয়তাবাদী মহান নেতা ছিলেন। বাঙালি কখনো স্বাধীন ছিল না। অনেক নেতায় স্বাধীনতার কথা ভাবতেন, আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন কিন্তু কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবই একমাত্র নেতা যিনি বাঙালিদের জাতীয়তাবাদী চেতনায় অনুপ্রাণিত করে জাতিরাষ্ট্রে বাংরাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু শোষন বৈশম্যহীন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন। তাইতো তিনি তাঁর ভাষনে, বক্তব্যে বার বার উল্লেখ করেছেন পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত, শোষক ও শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে। এতেই বুঝা যায় বঙ্গবন্ধু কত বড় মাপের জনদরদী নেতা ছিলেন। বঙ্গবন্ধু সব সময় সাধারণ মানুষের কথা ভাবতেন। সমাজে সকল শ্রেণীর মানুষ সমাজ সুযোগ-সুবিধা পাবে, ধনী-গরীবদের ব্যবধান থাকবে না, সবাই সুখে, শান্তিতে বসবাস করবে এটাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল। দুর্নীতি সমাজের বড় শত্রু। উন্নয়নের জন্য বড় বাধা। তাই বঙ্গবন্ধু সমাজ ও প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের সংমিশ্রনে নতুন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কায়েমের জন্য দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি বাকশাল গঠন করেন। এটা একটি রাজনৈতিক দর্শন ছিল। এই বাকশাল কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে অবশ্যই সমতাভিত্তিক ও ন্যায় ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোঃ আওরঙ্গজেব সভাপতি কর্মসংস্থান ব্যাংক বলেন, মেজর জিয়া রাজনীতিকে কোলষিত করেছেন। হত্যা, ক্যু আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতি জন্ম দিয়েছেন। মেজর জিয়া স্ব-ইচ্ছায় স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেননি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তেমনি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেন। বঙ্গবন্ধু হত্রার ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে তার যোগাযোগ ছিল। তিনি যদি ষড়যন্ত্রকারীদের উস্কে না দিয়ে দমন করতেন, তাহলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড সংঘঠিত হতো না। জিয়া যেমন দেশের সাথে প্রতারনা করেছেন, তেমনি বঙ্গবন্ধুর সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন। তিনি সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড লঙ্ঘন করেছেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছেন। তিনি যদি বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসতেন তাহলে ১৯৮১ সালে তাঁর জীবনহানী হওয়ার সম্ভাবনা থাকতো না। পরে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহীদ তার পরিবারের সদস্যদের এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদ আইভী রহমানসহ সকলের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্থরের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

আনন্দ কুমার সেন, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*