বগুড়ায় মেধা-যোগ্যতায় পুলিশে চাকরি পেলেন ২৩৯ জন

বিডিনিউজ প্রতিদিনঃ ফারহানা আক্তার। বাবা প্রান্তিক কৃষক। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন। অভাবের সংসার। টিউশনি করে পড়ার খরচ যোগান। এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। সংসারের হাল ধরতে পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরির জন্য ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট ও ৩ টাকায় ফরম কিনে আবেদন করেন। চূড়ান্ত ফলাফলে ফারহানার নাম ঘোষণা করতেই তিনি আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন। ফারহানা কাহালু উপজেলার বান্দাইখারা গ্রামের কৃষক ফেরদৌস রহমানের মেয়ে।

শামিম আকন্দের বাবা মারা গেছেন অনেক আগেই। তিন ভাইয়ের মধ্যে ছোট তিনি। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। বড় দুই ভাই ঢাকায় থেকে টিউশনি করে লেখাপড়া করেন। মা সাজেদা বেওয়া বাড়িতে মুরগি পালন করে সংসার চালানো ছাড়াও শামিমের লেখাপড়ার খরচের যোগান দেন। শিবগঞ্জ উপজেলার আটমুল ইউনিয়নের কুড়াহার গ্রামে পাঁচ শতাংশ ভিটেমাটি ছাড়া আর কোনো জমিজমা নেই তাদের। আগামী ১৭ জুলাই শামিমের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে। তার আগেই বুধবার রাতে পুলিশে নিয়োগ পরীক্ষার প্রকাশিত ফলে শামিম কনস্টেবল পদে চূড়ান্ত নিয়োগ পান।

ফারহানা ও শামিমের মতো দরিদ্র পরিবারের সন্তান দুপচাঁচিয়া উপজেলার রিফাত হোসেন, শিবগঞ্জের এরশাদুল, নন্দীগ্রামের রাবেয়া, বগুড়া সদরের বিথি খাতুন, সোনাতলার তানিয়া পুলিশে চাকরি পেয়েছেন মাত্র ১০৩ টাকা খরচ করে।

বুধবার রাত ১১টার  দিকে জেলার পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে কনস্টেবল পদে চাকরির চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা। চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ বেশির ভাগ প্রার্থীই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ঘুষ ও তদবির ছাড়াই সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বগুড়ায় ২৩৯ জনকে কনস্টেবল পদে  নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই দরিদ্র পরিবারের সন্তান।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্র জানায়, বগুড়ায় স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি প্রার্থী এ বছর কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন। এবারে মাঠে দাঁড়িয়েছিলেন ৬ হাজার ২১ জন। তাদের মধ্য থেকে শারীরিক যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে ৬২১ জনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত করা হয় এবং তাদের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। সেখান থেকে ১২৫ জন পুরুষ, ৭০ জন নারী ও অন্যান্য কোটায় ৪৪ জনসহ মোট ২৩৯ জনকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়। এছাড়াও ১০ জনকে রাখা হয়েছে অপেক্ষমাণ তালিকায়। উত্তীর্ণদের আগামী ১৩ জুলাই মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ  নিতে বলা হয়েছে।

চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়া গাবতলী উপজেলার মোখলেছার আলীর ছেলে ইউসুফ আলী। বাবা দিনমজুর। ইউসুফ বলেন, ‘চাকরির জন্য ঘুষ দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। আবেদনের আগে থেকেই বিভিন্ন জায়গায় শুনেছিলাম এবার ঘুষ ছাড়াই চাকরি হবে। বিশ্বাসই করতে পারছি না।’

পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, ‘সারাদেশে এবারের মতো শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগ আগে কখনো দেখিনি। বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়োগ পরীক্ষার আগে থেকে আমরা সতর্ক ছিলাম। দালালেরা যাতে প্রার্থীদের প্রতারিত করতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করেছে।’

এছাড়া যারা চাকরি লাভের আশায় দালালদের টাকা দিয়েছে তারা অভিযোগ করলে পুরো টাকা তুলে দেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।

পুলিশ সুপার বলেন, নারী, পুরুষ সাধারণ মেধা কোটা ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা, পোষ্য ও এতিম কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত প্রত্যেকেই চাকরি পেয়েছেন নিজ নিজ যোগ্যতায়। গত জুলাই থেকে শুরু হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া বুধবার রাতে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হলো। সূত্রঃ সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*