আসছে নতুন বাজেট বিনিয়োগ বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ

বিডিনিউজ প্রতিদিনঃ বিনিয়োগ বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে পুরোনো কাঠামোতেই আসছে নতুন বাজেট।২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ ১৩ জুন  মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১০ বছর বাজেট দিয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত না করে তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ব্যয় বাড়ানো এবং বড় আকারের বাজেট দেয়া। উদারহস্তে অর্থ ব্যয় করেছেন তিনি। বড় প্রকল্পগুলোর ব্যয় শেষ পর্যন্ত কোথায় থামবে সেটাও অজানা।

প্রায় সব ধরনের সংস্কার থেকে দূরে থেকেছেন তিনি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবে ছোট ছোট সমস্যা জমতে জমতে এখন বিস্ফোরণের পর্যায়ে চলে গেছে। ব্যাংকিং খাত এর বড় উদাহরণ। এমতাবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে পুরোনো কাঠামোতেই আসছে নতুন অর্থবছরের গতানুগতিক বাজেট। জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে আগামী ১৩ জুন বৃহস্পতিবার। বড় বাজেট দেওয়ার কৃতিত্বের চেয়েও ব্যয় সামাল, গুণমান বাড়ানো, স্বচ্ছতা তৈরি, সংস্কার এবং আয়ের পথ বৃদ্ধিই হবে নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এমনিতেই অর্থনীতির আকার বাড়ছে।

তাই স্বাভাবিক প্রবণতা হিসেবে বাজেটের আকারও বাড়বে। বাড়ছে উন্নয়ন বাজেটের পরিমাণও। পুরো বাজেটই হচ্ছে এত দিন ধরে চলা কাঠামোর মধ্যেই। এতে বাজেট বাস্তবায়নের সমস্ত দুর্বলতা যেমন থাকছে, তেমনি থাকছে ঘাটতি অর্থায়নের বিপজ্জনক দিকগুলো। ফলে সুদ পরিশোধ ব্যয় নতুন বাজেটেরও বড় মাথাব্যথা হয়েই থাকবে। তাত্ত্বিকভাবে একটি বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সম্পদের পুনর্বণ্টন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আয় বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি। এই লক্ষ্য পূরণে প্রতি অর্থবছরে বাজেটের আয়তন বাড়ছে। কিন্তু কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আবার সম্পদের পুনর্বণ্টন সঠিকভাবে না হওয়ায় দেশে আয়বৈষম্য এখন সবচেয়ে বেশি। আর প্রবৃদ্ধি হলেও সেই হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় অর্থনীতিবিদেরা একে বলছেন আয় ও কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি।  জানা গেছে, বাজেট উত্থাপনের পর ২৭ বা ২৯ জুনের মধ্যে সাধারণ আলোচনা শেষ করে অর্থ বিল পাস হবে। এরপর ৩০ জুন প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে।

আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর কার্যকর হবে। ১৩ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় মেয়াদের নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আসছে বাজেট সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। ২০১৯-২০ অর্থবছরের নতুন বাজেটের আকার কিছুটা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দেয়ার আগে এর আকারেও পরিবর্তন আসতে পারে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ইতিহাস সৃষ্টিকারী। যার পরিমাণ তিন লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছর ছিল তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা।

অর্থাৎ এক বছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। আয়-ব্যয়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রায় ঘাটতিও হবে এ যাবতকালের সবচেয়ে বড়। যার পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকারও বেশি। নতুন বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। বরাবরের মতো ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। তবে সমস্যা মূলত ঘাটতি অর্থায়নের উৎস নিয়ে। যেমন নতুন বাজেটে ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে ৬০ হাজার কোটির কিছু বেশি, আর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। উৎস বৈদেশিক হলে তা অর্থনীতির জন্য ভালো। এতে খরচ কম। বিপদ অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যেই। ব্যাংকব্যবস্থা থেকে বেশি অর্থ নিলে বেসরকারি খাত বঞ্চিত হবে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে। আর সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে অর্থ নিলে বিপদের মাত্রা আরও বেশি।

চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ঘাটতি অর্থায়নের লক্ষ্য ছিল ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। অথচ মাত্র ৯ মাসেই সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বেশি। বিকল্প ও নিরাপদ জায়গা না থাকায় সাধারণ মানুষের আগ্রহ সঞ্চয়পত্রে বেশি। এর ফলে ব্যাংকের সুদহার যেমন কমছে না, তেমনি বাড়ছে বাজেটের সুদ পরিশোধ ব্যয়। জনপ্রিয়তার মোহে সঞ্চয়পত্র নিয়ে বিপদেই আছে সরকার। এই উভয়সংকটের কারণেই এখন বাজেটের মোট ব্যয়ের ১৮ শতাংশই হচ্ছে সুদ পরিশোধ খাতে। নতুন বাজেটে এটি আরও বাড়বে। চলতি অর্থবছরের বাজেট ছিল চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তার ওপর নির্ভর না করে ধীরে ধীরে নিজস্ব অর্থায়নে বাজেট প্রণয়নের কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী বাজেটে আয়কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। আসন্ন বাজেটে (২০১৯-২০) নতুন করে ৮০ লাখ করদাতা বাড়ানোর ঘোষণা আসছে।

বর্তমান কর দিচ্ছেন এমন সংখ্যা ২০ লাখ। নতুন ৮০ লাখ যোগ হলে করদাতার সংখ্যা দাঁড়াবে এক কোটি। মূলত কর হার না বাড়িয়ে এর আওতা বাড়াতে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সরকারের এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পাঁচটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। যা নতুন অর্থবছর থেকে কার্যকর করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। কর প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আগামী বাজেটে কাউকে কষ্ট দিয়ে বাড়তি কর চাপানো হবে না। তবে এর আওতা সম্প্রসারণ করা হবে। কর দেয়ার যোগ্য কিন্তু দিচ্ছে না, তাদের এ আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। করের পরিমাণ বাড়াতে এ ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

সূত্রমতে, কর সংক্রান্ত হাল নাগাদ একটি প্রতিবেদন সম্প্রতি এনবিআর থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে উল্লেখ্য করা হয়, করদাতার সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রির্টান দাখিলের (করদাতা) সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হয়েছে। এটি বর্তমান ২০ লাখ অতিক্রম করেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ছিল ১৯ লাখ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ১৫ লাখ ৫০ হাজার। দর না পেয়ে খেতেই কৃষকের ধান পোড়ানো আগে কখনো ঘটেনি। আবার কমেছে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিও।  সূত্রঃ দৈনিক সংগ্রাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*