সাকুরা মৌসুমে

রাশেদুল ইসলাম,
(শেষাংশ)

 

জাপান সফরে প্রতিনিধি দলের নেতা আমি । এ ধরণের কেউ এমন কিছু করতে পারেন না, যাতে তাঁর নিজের
দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় । অবশ্য দেশের যে কোন নাগরিক, যিনি বিদেশে বেড়াতে যান বা প্রবাসে থাকেন,
সবার ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য । কারণ, প্রত্যেক মানুষ তাঁর নিজের দেশের প্রতিনিধি । একজন
ব্যক্তি মানুষের আচরণ দিয়েই, তাঁর নিজের দেশকে মূল্যায়ন করে অন্য দেশের মানুষ । আমার প্রথম
বিদেশে যাওয়া হয় ১৯৯৭ সনে । চীনের হোবে প্রদেশে । একটি আন্তর্জাতিক কর্মশালায় যোগদান করি
আমি । অংশগ্রহণকারী মোট দেশের সংখ্যা ৩১ । বাংলাদেশ থেকে আমি একা । বিদেশে যাওয়ার আগে মনে
মনে বেশ পুলক অনুভব করি আমি । বিদেশের মাটিতে একা ! নিজের ইছেমত যা খুশি করা যাবে সেখানে । কিন্তু,
বাস্তবে তা আর করা হয় না । তখন আমার মনে হয়েছে , স্বাধীনতা মানে নিজের যা ইচ্ছে, তা করা নয় ।
স্বাধীনতা মানে নিজের বিবেকবুদ্ধি মত কাজ করা । আর নিজের বিচারবুদ্ধি দিয়ে কাজ করলে, কেউ ইচ্ছে
মাফিক যা খুশী তাই করতে পারে না । আমাদের গাইডের নাম মিচিও আকুতসু । তাঁর কাছে একটা প্রশ্ন আমার
। যে অফিসে আমরা দুপুরের খাবার খেলাম, সে খাবার কে খাওয়াল ? যদি সেই অফিস খাবার দিয়ে থাকে, তাহলে
সেখানকার গারবেজ আমাদের বয়ে নিতে হবে কেন ? এ রকম একটা বহুতল ভবনে ময়লা ফেলার জায়গা নেই-

তা বিশ্বাসযোগ্য নয় । তবে আমার নিজের অবস্থান থেকে এ ধরণের প্রশ্ন গাইডকে করা মোটেও সমীচীন
নয় । কিন্তু, লেখার জন্য এটা জানা দরকার আমার । বিষয়টি মিঃ আকুতসুকে বুঝিয়ে বলি আমি ।
মিঃ আকুতসু বিষয়টি সহজভাবে নেন । তিনি জানান, সেই অফিস আমাদের দুপুরের খাওয়া দেয়নি । দুপুরের সময়
হওয়াতে আয়োজক সংস্থা উক্ত খাবারের ব্যবস্থা করে। জাপানের নিয়ম অনুসারে আবর্জনা পরিষ্কারের
দায়িত্ব স্ব স্ব ব্যক্তি বা সংস্থার । এজন্য কোন ব্যক্তি যদি ময়লা ফেলার জায়গা না পায়; তাহলে ব্যাগে
ভরে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাবে । কিন্তু, যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবে না । এটাই নিয়ম । স্কুল থেকেই জাপানি
ছেলেমেয়েদের হাতে কলমে এ শিক্ষা দেওয়া হয় । যে অফিসে আমরা খেয়েছি; খাবার যেহেতু সেই অফিস দেয়নি-
সেই আবর্জনা ফেলার দায়িত্ব তাঁদের নয় । এ কারণে সেই আবর্জনা বাসে করে আমাদের আনতে হয়েছে । এ
প্রসঙ্গে দেশ থেকে শোনা একটা গল্প মনে পড়ে আমার । আমাদের দেশের একজন বড় কর্মকর্তা, পরিচালক
পর্যায়ের; তিনি একটা কর্মশালায় যোগ দেন জাপানে । আলোচনার এক পর্যায়ে নিজ দপ্তরের পরিচ্ছন্নতা
বিষয়ে কথা উঠে সেখানে । কয়েকজন সেই আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন । এতে বিরক্ত হন তিনি । জানান,
আমাদের দেশে অফিস পরিষ্কার করার জন্য পরিচ্ছনতা কর্মী রয়েছে । কনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তা তাঁদের
কাজ তদারকী করেন । কর্মশালায় এধরণের বিষয় আলোচনা হবে জানলে, তিনি সেই জুনিয়র কর্মকর্তাকেই
পাঠাতেন । নিজে আসতেন না । কর্মশালায় উপস্থিত সভাপতি বিনীতভাবে জানান, জাপানে পরিচ্ছনতা কর্মী
নামে কোন পদ নেই । তাঁরা প্রত্যকেই নিজ নিজ অফিস পরিচ্ছন রাখার কাজ করে থাকেন । এ বিষয়টি আমি
আমার এক সহকর্মীর সাথে শেয়ার করি । তিনি বেশ কিছুকাল ইংল্যান্ডে ছিলেন । তিনি জানান রাজকুমার
উইলিয়াম এবং হ্যারি যখন ছোট ছিলেন তখন তাঁদের টয়লেট নিজেরা পরিষ্কার করার দৃশ্য একটি ডকুমেনটরিতে
দীর্ঘক্ষণ দেখানো হয় । নিজেদের ঘরবাড়ি যে নিজেরাই পরিষ্কার করতে হয়-এটা সে দেশের ছেলেমেয়েদের
শেখানোর জন্যই সেই প্রামান্য চিত্রটি দেখানো হয় । আমি নিজে অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ে
কিছুকাল পড়েছি । সেখানে ডরমিটরিতে আমাকেও পালা করে টয়লেট এবং রান্নাঘর পরিষ্কার করতে হয়েছে ।
বরাদ্দ ঠিক রাখতে এ কাজ বাধ্যতামূলক । দেশে এসে সেই চর্চা অন্যদের মত আমি নিজেও ভুলে গেছি। আমরা
বাঙালিরা অনেক দিক দিয়ে অনেক এগিয়েছি সত্য; কিন্তু নিজেদের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন
রাখার ক্ষেত্রে একেবারেই পিছিয়ে । আমরা কি আমাদের স্কুল পর্যায় থেকে এ কাজ বাধ্যতামূলক করতে
পারিনে ? এটা কি খুবই কঠিন কাজ ?
জাপানের মানুষ বিনয়ী । পৃথিবীর বিনয়ী জাতির কোন তালিকা আছে কিনা, আমার জানা নেই । যদি থাকে, তাহলে
জাপানিদের নাম তালিকার শীর্ষে থাকার কথা । কিন্তু, মজার ব্যাপার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হওয়ার
আগে, জাপানিরা এমন বিনয়ী জাতি ছিল না । আমার মনে হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শোচনীয় পরাজয় এবং
হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আণবিক বোমার বিভীষিকাময় স্মৃতি জাপানি জাতিকে এক সুসভ্য ও বিনয়ী জাতিতে
পরিণত করেছে । কোরিয়া মাত্র ৩৫ বছর জাপানের কলোনি ছিল । পক্ষান্তরে ভারত উপমহাদেশ প্রায় ২০০
বছর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কলোনি ছিল । কিন্তু, মাত্র ৩৫ বছরে কোরিয়ার জনগণ জাপানিদের দ্বারা যে
অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়, তা অনেক ক্ষেত্রে এ উপমহাদেশে ইংরেজদের অত্যাচার নির্যাতনকেও
হার মানায় । কিন্তু, মজার ব্যাপার, সেই যুদ্ধবাজ জাপান আজ পৃথিবীর একনম্বর বিনয়ী জাতির দেশ । আজ
পৃথিবীর এক নম্বর সুসভ্য এক জাতির নাম জাপানি । তারমানে এই যে, ভুল করার মধ্যে কোন ভুল নেই ; যদি
সেই ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে শুধরে নেওয়া যায় এবং একজন জাপানি নাগরিকের মত নিজের খোলনলচে
একেবারে বদলে ফেলা যায় ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান পরাজিত, আণবিক বোমায় ক্ষতবিক্ষত যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ ।
এ অবস্থা কাটিয়ে স্বল্পসময়ে প্রথম শ্রেণির শিল্পোন্নত একটি দেশে পরিণত হয় জাপান । এটা সে
দেশের বিনীত ও মেধাবী জনগণের কঠোর পরিশ্রমের ফসল । যে ৩য় শিল্প বিপ্লবের কথা আগে বলা
হয়েছে, সমৃদ্ধ জাপান সে পর্যায় ছাড়িয়ে গেছে । এখন ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের পসরা সাজিয়ে তৈরি
জাপান । গোটা পৃথিবীর বাজার ধরতে চায় সে । শুধু জাপান নয় পৃথিবীর আরও কয়েকটি দেশ আছে একই
কাতারে । এখন প্রশ্ন বাংলাদেশ কি আগের মত ৪র্থ শিল্প বিপ্লবেও উন্নত দেশের বাজার হবে ? না
নিজেই বাজার সৃষ্টি করবে ? এ বিষয়ে সরকারের জবাব সুস্পষ্ট । আর কোন বাজার হওয়া নয়;
৪র্থ শিল্প বিপ্লবে বাজার সৃষ্টির মাধ্যমেই ২০৪১ সনের লক্ষ্য অর্জন করতে চায় বাংলাদেশ ।
কিন্তু, পরের প্রশ্ন এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা কতটুকু ? আগেই বলা হয়েছে শিল্প উৎপাদনে
ইঞ্জিন ব্যবহারের মাধ্যমে ১ম শিল্প বিপ্লব, বিদ্যুত ব্যবহারের মাধ্যমে ২য় শিল্প বিপ্লব এবং
কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে ৩য় শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হয় । ১ম ও ২য় শিল্প
বিপ্লবে বাংলাদেশ কোন সুবিধা পায়নি; কারণ গোটা ভারত উপমহাদেশ তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের
কলোনি ছিল । ১৯৭০ সনে ৩য় শিল্প বিপ্লবের সূচনা হলেও বাংলাদেশ সে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়
২০০৯ সনে; যখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নবগঠিত সরকার রুপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন শুরু করে ।
সে সময় সরকার বাংলাদেশেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য ঘোষণা করে । এই প্রক্রিয়ায়
পরবর্তী ১০ বছরে সরকার একটি চমৎকার ডিজিটাল প্লাটফরম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে । কিন্তু,
এই প্লাটফরম কি ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের বাজার ধরার জন্য যথেষ্ট ? এ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার
আগে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের স্বরূপ ব্যাখ্যা করা দরকার ।
আগের আলোচনায় দেখা গেছে শিল্প উৎপাদন প্রক্রিয়ায় একটি নতুন প্রযুক্তি যোগ হওয়ায়
উৎপাদন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে । সেই ব্যাপক পরিবর্তন একটা বিপ্লবের কারণ
ঘটিয়েছে । সে রকম একটা নতুন প্রযুক্তির নাম Artificial Intellegence (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ।
উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারই ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের মূল কারণ । অন্য ৩
টি শিল্প বিপ্লবের সাথে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে । অনেকের মতে সেই
পার্থক্যটাই ভয়ের কারণ । অন্যান্য শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রে মেশিনের পিছনে কাজ করেছে মানুষ ।
কিন্তু ৪র্থ শিল্প বিপ্লবে মেশিনের পিছনে যে কাজ করবে, সে মানুষ নয়; কাজ করবে আর একটি
মেশিন । যেমনঃ গাড়ি একটা মেশিন; এই গাড়ি চালাবে রোবট নামের আর একটি মেশিন । কোন মানুষ গাড়িচালক
থাকবে না । রোগীদের একটা মেশিন দিয়ে অপারেশান করা হবে । কিন্তু, যিনি অপারেশন করবেন তিনি মানুষ নন;
তিনিও একটি মেশিন । এ কারণে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবকে 2 nd Machine Age বা ২য় যন্ত্রযুগ বলা হচ্ছে ।
৪র্থ শিল্প বিপ্লবের প্রকৃতি দেখে অনেকে ভয় পান । তাঁরা বলতে চান বাংলাদেশের মত জনবহুল দেশে এ
বিপ্লব সুফল দেবে না । এ বিপ্লব বেকারত্ব সৃষ্টির কারণ হবে মাত্র । প্রথমেই বেকার হবে হাজার হাজার
গার্মেন্টস শ্রমিক । ইত্যাদি । ইত্যাদি । ৪র্থ শিল্প বিপ্লবে যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বাজার সৃষ্টি হবে;
নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে- সে বিষয়টি তাঁরা বিবেচনায় নেন না । ৩য় শিল্প বিপ্লবের মূল
উপকরণ কম্পিউটার যখন আমদানির কথা আসে; তখন টাইপিস্ট যারা ছিলেন, তাঁরা আপত্তি তোলেন । তাঁদের
ভয় ছিল কম্পিউটার এলে তাঁদের চাকুরী থাকবে না । কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশে সেদিনের সেই টাইপিস্টগণ

চাকুরীতে নিজেরা শুধু ভালো অবস্থানে আছেন তাই নয়; সেই কম্পিউটার হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর চাকুরীর
সুযোগ সৃষ্টি করেছে । একই ভাবে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবে একদিকে যেমন কিছু মানুষের চাকুরী হারানোর ভয়
থাকবে; অন্যদিকে অগণিত মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে । প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদশ ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের
জন্য কতটা তৈরি ? এ বিষয়ে আমি একটা মাত্র উদাহরণ দিতে চাই । সেদিন সপ্তম শ্রেণির একটা ছাত্র
আমার কমিটির সামনে আসে । নাম মাশফি । সে একটা উদ্ধারকারী দ্রোণ আবিস্কার করতে চায় । সে তার
বক্তব্যে রানা প্লাজার ঘটনা বলে । অতিসম্প্রতি বনানীর বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় উদ্ধার
কাজের ট্রাজেডির কথা বলে । এই দুটি ঘটনা তাকে এই আবিষ্কারে উদ্বুদ্ধ করেছে বলে সে জানায় । তার
আবিষ্কৃত দ্রোণ এধরণের দুর্ঘটনায় আটকে পড়া অসহায় মানুষের অবস্থা জানাতে সক্ষম হবে বলে দাবী করে
সে । কমিটির একজন বিশেষজ্ঞ সদস্য , যিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, তিনি বনানী অগ্নিকাণ্ডের
তাপমাত্রা এবং সেই আগুনে তার দ্রোণ পুড়ে যাবে কিনা জানতে চান । ছেলেটি দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে বনানী
অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুনের তাপমাত্রা উল্লেখ করে এবং যে ধাতু দিয়ে তার দ্রোণ তৈরি হবে, তা সেই
আগুনের তাপমাত্রায় পুড়বে না বলে জানায় । রুপকল্প ২০২১ এর আওতায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ
প্রক্রিয়ায় এ ধরণের হাজার হাজার মাশফির গর্বিত মা এখন বাংলাদেশ । এরাই ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের সৈনিক ।
সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ডিজিটাল বাংলাদেশ প্লাটফরমে অর্জিত এ ধরণের সকল সাফল্য সমন্বিত
ভাবে কাজে লাগানো । এ কারণে ৪র্থ শিল্প বিপ্লব বাস্তবায়নের জন্য একটি সমন্বিত কর্ম কৌশলপত্র তৈরি
করা প্রয়োজন । যে মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে ২০০৯ সনে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ
কাজ শুরু হয় – একই ভাবে ৪র্থ শিল্প বিপ্লব বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে হবে । এবং তা অবিলম্বে ।
প্রকৃতপক্ষে ৪র্থ শিল্প বিপ্লব গোটা পৃথিবীকে একই প্লাটফরমে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে । হার্ভার্ড
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ প্রফেসর Gerschenkron এর The Gerschenkron’s
Hypothesis এখানে প্রযোজ্য । এই তত্ত্বের মর্ম অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত ৩টি শর্ত পূরণ করলে যে কোন
উন্নয়নশীল দেশ ৪র্থ শিল্প বিপ্লবে বিজয়ী হতে পারেঃ
১। যে জাতির একটা অভিজাত শ্রেণি আছে, যারা নতুন প্রযুক্তি বোঝেন;
২। যে জাতির মধ্যে নতুন প্রযুক্তি বিরোধী কোন দল নেই; এবং
৩। যে জাতির দৃঢ়চেতা একজন নেতা আছেন, যিনি নতুন প্রযুক্তি গ্রহন করতে চান ।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র অভিজাত শ্রেণি নতুন প্রযুক্তি বোঝেন তা নয়; এদেশের আপামর জনগণ
নতুন প্রযুক্তির মর্ম বোঝেন । ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত
করার কৃতিত্ব সরকারের । এদেশে নতুন প্রযুক্তি গ্রহন বিষয়ে কোন বিরোধী দল নেই । এদেশের মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর । এ সবকিছু কাজে
লাগানো সম্ভব হলে, ৪র্থ শিল্প বিপ্লব হবে বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ । এই বিপ্লবে নেতৃত্বের
আসন পেতে পারে বাংলাদেশ ।
আমি বলছিলাম সাকুরা মৌসুমের কথা । সাকুরা মৌসুমে জাপানের কথা । জাপান বাংলাদেশের বন্ধু প্রতিম দেশ ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অকুণ্ঠ সমর্থন দেয় জাপান । হলি আরটিজানের ঘটনায় ৯ জন জাপানি নাগরিকের
করুণ হত্যাকাণ্ডে যখন বাংলাদেশ নাজুক অবস্থায় পড়ে, তখনও জাপান অকৃতিম বন্ধুর মত পাশে থাকে ।

৪র্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্ব দিতে হলে এধরণের কিছু বন্ধু রাষ্ট্রের সহযোগিতা বড় প্রয়োজন । তবে, এই
প্রয়োজন নিরূপণে মুনশিয়ানা থাকতে হবে; যেন বাংলাদেশ তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*