প্রবাসে একটি নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজয়ের গল্প

বিডিনিউজপ্রতিদিন: ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহাসিক গোয়াংজু নগরীতে অবস্থিত চোন্নাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (국제관계학)‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’ নামক বিভাগটি (বর্তমানে আমি পি.এইচ.ডিপ্রোগ্রামে গবেষণারত) ওয়ার্ল্ড কোরিয়ান নেটওয়ার্ক নামে অনুমোদনপেয়ে ২০০৬ সালে স্প্রিং (শীতকালীন)  সেমিস্টার থেকে দেশিবিদেশী মাত্র ৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে।কিন্তু বিভাগটি নামকরণ ওয়ার্ল্ড কোরিয়ান নেটওয়ার্ক হওয়ায়আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের ক্ষেত্রে স্পেশালাইজডকোন বিষয় হিসেবে খুব বেশি আগ্রহ না দেখানোর ফলে ২০০৭ সালের ফল (গ্রীষ্মকালীন) সেমিস্টার থেকে সার্বজনীন প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় রেখে বিভাগটির নাম ওয়ার্ল্ড কোরিয়ান নেটওয়ার্ক’ থেকে পরিবর্তন করে (국제관계학) ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’ হিসেবে নামকরণ করাহয়

প্রার্থীদের একাংশের ছবি।

বিভাগটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে শুধু মাস্টার্স এবং ডক্টরাল(পি.এইচ.ডি) কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী পরিলক্ষিত না হলে বিদেশী শিক্ষার্থীদের পদার্পণ কিন্তু ঠিকই ছিল। ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কোরিয়ানরা ছাড়াও মধ্যএশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং এশিয়া ফেডারেশন (জাপান, চায়না, কিরগিস্থান, কাজাকিস্তান, উজবেকিস্থান, রাশিয়া) ও দেশের শিক্ষার্থীরাআমাদের বিভাগ থেকে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করে থাকলে ২০১১ সাল থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর অন্যতম মিয়ানমার এবংবাংলাদেশের নামও বিভাগের বিদেশী শিক্ষার্থী গ্রহণের তালিকায় যুক্তহয়

বর্তমানে কোরিয়ানদের পাশপাশি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, কাজাকিস্তান, উজবেকিস্তন, স্পেন, চায়না, ভিয়েতনাম, রুয়ান্ডা,আমেরিকা প্রভৃতি দেশের শিক্ষার্থীরা মাস্টার্স এবং পি.এইচ.ডি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত রয়েছে। বিভাগটিতে এখন পর্যন্ত মোট ভর্তিকৃত ১২৮ জনশিক্ষার্থী মধ্যে ৫০ জন শিক্ষার্থী বিদেশী যাদের মধ্যে ২৩ জন ডক্টরাল (পি.এইচ.ডি) ডিগ্রী এবং ৩০ জন মাস্টার্স ডিগ্রী প্রাপ্ত হয়েছে অন্যদিকে৩৩ জন শিক্ষার্থী তাদের কোর্সওয়ার্ক শেষ করে মূল গবেষণাপত্র(থিসিস/ ডিজারটেশন) লিপিবদ্ধের কাজ করছে

যারা কোরিয়াতে পড়াশোনা করছেন তাদের কাছে পরিচিত হলেও অনেকেই বিষয়টা সম্পর্কে অবগত নাও হতে পারে, তাই বলা বাহুল্য,অধিকাংশ কোরিয়ান ব্যাচেলর ডিগ্রী শেষ করে চাকরিবাজারে প্রবেশ করে অন্যদিকে উচ্চতর ডিগ্রীর ক্ষেত্রে যেহেতু বয়সের কোনসময়সীমা কোরিয়াতে নাই, তাই আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের মতোব্যাচেলর ডিগ্রী শেষ করে সরাসরি মাস্টার্স প্রগ্রামে অধ্যয়নরতকোরিয়ান শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সেই তুলনায় খুব বেশি চোখে পড়ে না তাই নতুন হিসেবে প্রতিষ্ঠাকালিন থেকে এ পর্যন্ত বিভাগটি থেকেডিগ্রী প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কোরিয়ার প্রেক্ষাপটে খুব কম বলেবিবেচিত হবার নয়।

বার মূল আলোচনায় আসা যাক, প্রতি বছর আমাদের বিভাগঅ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় অধ্যয়নরত বর্তমানশিক্ষার্থী (재학생), কোর্সওয়ার্ক সমাপ্তকৃত  (수료생) এবং গ্রাজুয়েট (졸업생) শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন কর্মশালা(ওয়ার্কশপ) আয়োজন করে থাকে। যেখানে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয়া এবং বিভাগের নিয়মকানুনসহ যাবতীয় বিষয়ে একটা সংক্ষিপ্ত অরিয়েন্টেশনেরও আয়োজন করা হয়ে থাকে। কিন্তু শীতকালীন কর্মশালায় অপরিহার্য করণীয় বিষয়গুলোর একটা হচ্ছে অ্যালামনাইঅ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। যেটাকে কেন্দ্র করে দূর-দূরান্ত থেকে বর্তমানে অধ্যয়নরত দেশি-বিদেশি (재학생), কোর্সওয়ার্কসমাপ্তকৃত (수료생) শিক্ষার্থী এবং কোরিয়ান গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীরাও উক্ত কর্মশালায় যোগদান করে থাকেন। ঠিক তারই ধারাবাহিকতাই এইবারেরশীতকালীন কর্মশালাটি সময়ের প্রতুলতায় একটু দেরিতে হলেও গত ১২ই এপ্রিল ২০১৯ চোন্নাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ট্রেইনিং সেন্টারেঅনুষ্ঠিত হয়।

আগেই বলে হয়েছে যে, কোরিয়াতে যেহেতু পড়ালেখার জন্য নির্দিষ্ট কোন বয়স নাই, তাই অনেক বয়স্ক লোকজনও ইচ্ছা পোষণ করলে যদি সে সক্ষম হয় যেকোনো বয়সে পড়ালেখা করতে পারে। তাই স্বাভাবিকভাবে আমাদের বিভাগে ফুল টাইম (আমরা যারা সকাল ৯টা থেকে অনির্দিষ্টসময় পর্যন্ত গবেষণা সেন্টারে গবেষণায় নিয়োজিত) শিক্ষার্থীদের তুলনায় পার্ট টাইম (যারা প্রত্যেকেরই কর্মসংস্থান আছে হয়তো প্রয়োজনের তাগিদে বা শখেরবশে ডিগ্রি নিতে এসেছেন) শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও কম নয়। যাদের মধ্যে পার্লামেন্ট মেম্বারসহ অধিকাংশই বড় বড় মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানির মালিক, সিইও, এনজিও ডিরেক্টর, স্কুল টিচার, চার্চের যাজক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ইত্যাদি। তারা ছুটে চলে আসে, প্রাণের টানে; দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা মিলে একই ছত্র-ছায়ায় কোরিয়ার ব্যস্ততম জীবন ভুলে প্রকৃতির সান্নিদ্ধে এসে কাটানোর জন্য কয়েকটি ঘণ্টা।

বরাবরের মতএবারের শীতকালীন কর্মশালাতেবিভাগের অ্যালামনাইঅ্যাসোসিয়েশনের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ে চলে এল এবার প্রার্থীদের নাম প্রস্তাবের পালা। কোরিয়ান জন প্রার্থীর সাথে আমারএক স্প্যানিশ সহপাঠী একমাত্র বিদেশী প্রার্থী হিসেবে আমারও নাম প্রস্তাব করল আমাদের জন প্রার্থীকে প্রথমেসংবিধান অনুযায়ী পৃথক পৃথকভাবেইস্তেহার বর্ণনা করতে হল যে, আমাদেরমধ্যে যিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেনতিনি ডিপার্টমেন্টের উন্নয়নের জন্য কি কি পরিকল্পনা করেছেন এবং সেগুলো কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সবার ইস্তেহার বর্ণনার পরে জন কোরিয়ান প্রার্থী অকপটে তাদের ইস্তেহারডিপার্টমেন্টের জন্য খুব বেশি কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসার সম্ভবনা নাই বলে তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলোএতে কারো মধ্যে নুন্যতম সঙ্কচবোধ লক্ষ্য করা গেল না যেখান থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছেযে, কিভাবে নিজের অপারগতাকে অকপটে স্বীকার করতে হয়। প্রার্থী হিসেবে বাকি রইলাম আমরা ৩ জন শুরু হল ভোট দেওয়ার পালা।

একদল শিক্ষার্থী কাগজে প্রার্থীদের নাম লিখে গননা করার পক্ষে মত পোষণ করলেও ডিজিটাল যুগে কাগজ কলমের বদলে মোবাইলে পোল তৈরি মাধ্যমে ভোট দেওয়ার পক্ষে বেশি মানুষের সমর্থন দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত মোবাইল পোলিংয়ের মাধ্যমে ভোট প্রদানের কাজ সমাপ্ত হল। কিন্তু কোরিয়ান প্রার্থীদের জন্য দুঃখজনক হলেও এটাই সত্য যে, আমি পেলাম৮৪.৬২% ভোট আমার প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে জন কোরিয়ানের মধ্যে ১ জন পেল ১৪.৩৮% ভোট আর অপরজন কোন ভোটই পেলেন না

এস্তেহার প্রদানকালীন ছবি

তারপর পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট সকল ভোটারদের উদ্দেশে জিজ্ঞাসা করল-প্রার্থী হিসেবে আমার কোন গুণাবলী বা যোগ্যতার কারণে আমি বিদেশিহওয়া সত্ত্বেবিপুল সংখ্যক ভোটে আমাকে নির্বাচিত করা হল?অধিকাংশের কথায় যেটা বোঝা গেল আমার দেয়া ইস্তেহার গুলোর মধ্যে একটা ছিল গ্লোবাল নেটওয়ার্ক তৈরিযেমন আন্তর্জাতিক একাডেমিককনফারেন্সসহ বিদেশি প্রফেসরদের শিক্ষার্থীদের সাথে কোরিয়ান প্রফেসর শিক্ষার্থীদের সেতুবন্ধন তৈরি এবং আমাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে ডিগ্রীপ্রাপ্ত বিদেশি শিক্ষার্থী যারা নিজ নিজ দেশে অথবা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা যাতে বিশ্বব্যাপী আমাদের ডিপার্টমেন্টের একটা গ্লোবাল নেটওয়ার্ক সৃষ্টি হয়। এই বিষয়গুলো অন্য প্রার্থীদের ইস্তেহারে অনুপস্থিত ছিল বলে সবাই মতামত ব্যক্ত করেন।  

এক যুগের ধারাবাহিকতার ব্যত্যয় ঘটিয়ে এই প্রথম কোন বিদেশি ছাত্র বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় বিভাগের সকল প্রফেসরদের মধ্যে একটা অন্য রকমের সাড়াপরে যায় ফলে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’ (국제관계) বিভাগেরবিভাগীয় প্রধান প্রফেসর কিম গিয়ং হাক (আমার নিজের সুপারভাইজার, যিনি একই সাথে নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীনও বটে) নিজে আমাকে তার অফিসে ডেকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি পরবর্তী ১ বছরের কর্ম পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছুদিক-নির্দেশনা প্রদান করেন

এই পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পরে দায়িত্বের পরিধিও কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া যে তন্ত্রের রোল মডেল সেটা আরও একবার প্রমাণিত হল যখন প্রথম একজন বিদেশি ছাত্র জাতিধর্মবর্ণগোষ্ঠীআঞ্চলিকতাস্বজনপ্রীতি এবং সর্বোপরি বয়সের মানদণ্ডকে উপেক্ষা করে নিজের যোগ্যতা বলে কোরিয়ান বনাম বিদেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিদেশের মাটিতে একটি বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্টনির্বাচিত হয়। কেননা যোগ্যতা ও দায়িত্ববোধের বিবেচনায় কোরিয়াতে স্বজনপ্রীতি বা দলীয় মতাদর্শ কোন কিছুই মূখ্য বিষয় নয় তাই কোরিয়ানমেইনস্ট্রিম সমাজে জায়গা করে নিতে হলে নৈতিকতা ও কর্তব্যবোধের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্যতা দায়িত্ববোধ, আস্থা বিশ্বাসযোগ্যতা, সততা ও নিষ্ঠার কোনও বিকল্প নেই তবে এখানে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে কোরিয়ান ভাষা। কেননা, কোরিয়াতে বসবাসরত বিদেশিদের সম্পর্কেতারা ইতিবাচক না নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে, করলেও কোনটারপরিধি কতটুকু, তার অনেকটাই নির্ভর করে একজন বিদেশী হিসেবে সেনিজেকে কিভাবে কোরিয়ানদের সামনে উপস্থাপন করে এই উপস্থাপনাবিষয় হিসেবে নিজের দেশজাতিধর্মবর্ণগোষ্ঠী যা কিছুই বিব্রিত হোক না কেন, ক্ষেত্রে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে কোরিয়ান ভাষা যেহেতুকোরিয়ানরা ইংরেজিতে খুব বেশি ভাল না আবার যারা একটু পারে তারাওইংরেজীতে দীর্ঘমেয়াদী কোন আলাপচারিতায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না,তাই ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করে কোরিয়ান মেইনস্ট্রিম সমাজের ভেতরে প্রবেশ করা খুব কষ্ট সাধ্য কাজগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে

যেহেতু আমাকে একাডেমিক কোর্সওয়ার্কের শতভাগই করতে হয় কোরিয়ান ভাষায় এবং আমি কোরিয়ানদের সাথে ক্যাজুয়াল ফান ওআড্ডাগুলোতেও অংশগ্রহণে সক্ষম যেটা কোরিয়ান প্রফেসরস ও সহপাঠীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টিতে একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছেবলে মনে হয় ফলে আমার কোরিয়ান ভাষাতে সল্পবিস্তর দক্ষতা নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষণা সময় ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণসহ এই এই দুঃসাহসিকনির্বাচনী লড়াইয়ের ক্ষেত্রে আগ্রনী ভুমিকা পালন করেছে

সবাই জানেন যে, স্বাধীনতা পাওয়ার চেয়ে রক্ষা করা কঠিন, তাই আমারউপর বর্তানো গুরু দায়িত্বকে সঠিকভাবে পালনের ব্রত নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।

,

পরিশেষে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকমণ্ডলী প্রতি যাদের প্রেরনায় এবং আমারএকান্ত ইচ্ছা শক্তির ফলেই উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি জমাতেপেরেছিলাম দক্ষিণ কোরিয়াতে যেহেতু নৃবৈজ্ঞানিক গবেষকরা যেকোনো পরিবেশেই মানিয়ে নিতে পারে, তাই আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম কিছু ঘটেনি এক্ষেত্রে নৃবৈজ্ঞানিক সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি (Anthropological holistic approach) এর ভূমিকা অপরিসীম। শেখার মানসিকতা নিয়ে প্রতিনিয়তই ছুটে চলছি নতুনের সন্ধানেআপ্রা চেষ্টা করে যাচ্ছি গতানুগতিকধারাকে একটু ব্যতিক্রমী রূপেতুলে ধরতে

তারই ধারাবাহিকতায়, আমি দক্ষিণ কোরিয়ার চোন্নাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (국제관계학과) বিভাগেরঅ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দীর্ঘ এক যুগের ধারবাহিকতার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ১৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ফলে নিজের কাছে শুধুমাত্র অন্য রকমের ভাল লাগায় সৃষ্টি হয়নি বরং আত্মবিশ্বাসেমাপকাঠিকেও করেছে অনেক মজবুত ও শক্তিশালী। কঠিন কাজটি সম্পন্ন করতে গিয়ে দেশি-বিদেশী শিক্ষার্থীশিক্ষকদের আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে আমার দেশমাতৃকা (বাংলাদেশের) নামআমাকে এরকম একটি ইতিবাচক চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়ার জন্য বিভাগের সকল শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদসহ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। সেই সাথে অ্যালামনাইঅ্যাসোসিয়েশনের প্রতিটি সদস্যের প্রত্যাশা পূরণের ব্রত হোক আমারআগামী এক বছরের পথ চলার অঙ্গীকার। যেতে হবে বহুদূর

 

লেখক: মোঃ গোলাম রব্বানী, পি.এইচ.ডি গবেষক

চোন্নাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিদক্ষিণ কোরিয়া

rabbani.cnu@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*