বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত

Spread the love
  •  
  •  
  •   
  •   
  •  

বিডিনিউজপ্রতিদিনঃ বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে আজ ১৭ই এপ্রিল ২০১৯, বুধবার সকাল ১০ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাব ভবনের কনফারেন্স লাউঞ্জ-৩, তৃতীয় তলা (আব্দুস সালাম হল) মিলনায়তনে “মুজিবনগর সরকার স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম আইনসম্মত ও বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃত” -শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত অনুষ্ঠানে সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফীন সিদ্দিক, সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যারিষ্টার এম আমীর-উল ইসলাম, সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর, অধ্যাপক আ ব ম ফারুক, সাবেক ডীন, ফার্মেসী অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ড. সাদেকুল আরেফীন, অধ্যাপক, সমাজকর্ম বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক ড. অরুন কুমার গোস্বামী, চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ড. শাহজাহান মন্ডল, সাবেক ডীন, আইন অনুষদ, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ইতিহাসবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সচিব সিরাজউদ্দিন আহমেদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা এ্যাডভোকেট দিদার আলী ও মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, বাসসের সিনিয়র সাংবাদিক অজিত সরকারসহ দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

সভাপতিত্ব করেন- ডা. এস. এ. মালেক, সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মতিউর রহমান লাল্টুর সঞ্চালনায় সভাপতির বক্তব্যে ডা. এস এ মালেক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাঙালীর মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। একটি শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক এবং কল্যাণকর রাষ্টের স্বপ্ন তিনি দেখতেন। তিনি একজন খাটি বাঙালি ছিলেন। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর না করা এবং বাঙালিদের উপর অন্যায়ভাবে একটি যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে ও নিরীহ বাঙালিদের হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙালির ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন এবং পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক বাঙালিরা আক্রান্ত হলে ২৬ শে মার্চ ১৯৭১ প্রথম প্রহরে গ্রেফতার হওয়ার কিছুক্ষণ পূর্বে তিনি ওয়ারলেস বার্তার মাধ্যমে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেশবাসী ও বিশ্বসম্প্রদায়কে জানিয়ে দেন। আজ স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে অহেতুক মিথ্যাচার ও রূপকল্প ছড়ানো হয়। প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার একমাত্র আইনগত, বৈধ ও নৈতিক অধিকার অর্জন করেছিলেন। অন্য কেউ এই অধিকার অর্জন করতে পারেনি। কারণ, বাংলার জনগণই নির্বাচনে এই অধিকার দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক মুজিব নগর সরকার স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রথম আইনগত ও বৈধ সরকার। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে মুজিবনগর সরকারের গৌরবজ্জ্বল ভূমিকা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে। 

ব্যারিষ্টার এম আমীর-উল-ইসলাম বলেন, মূলত মুক্তিযুদ্ধ ১লা মার্চ ১৯৭১ সাল থেকেই শুরু হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য একপর্যায়ে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। পূর্ব বাংলায় পাকিস্তানী কেন্দ্রীয় শাসন অকার্যকর হয়ে পড়ে। সর্বত্র বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন তীব্রতর রূপ ধারণ করে। আন্দোলনের তীব্রতা দেখে পাকিস্তানী শাসকেরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। পূর্ব বাংলায় বঙ্গবন্ধুর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। কারণ এই সরকারের তাৎপর্য ও অবদান সুদূঢ় প্রসারী ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর সরকার নেতৃত্ব দিয়েছে ও এর ফলে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম একটি দেশ পেয়েছি। আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে অনেক রকম দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র হয়েছে। সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিনের নেতৃত্বে সফল মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে এবং আজ আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে গৌরববোধ করি। 

অধ্যাপক ড. আরেফীন সিদ্দিক বলেন, একটি দেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম একদিনে গড়ে ওঠে না বা একজন নেতার কথায় স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয় না। এর পেছনে থাকে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, যোগ্য নেতৃত্ব, বুদ্ধিমত্ত্বা এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা ও আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়া। এই যোগ্যতা একমাত্র বঙ্গবন্ধুই অর্জন করেছিলেন। তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাঙালি জাতি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা।
ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণের মাধ্যমে মূলত বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিলেন। ৭ই মার্চে বাঙালির স্বাধীনতা দিবস হতে পারতো। তিনি লাখো লাখো জনতার উদ্দেশ্যে ৭ই মার্চে যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন ঐদিনই ঐ ভাষণটি মুক্তিযুদ্ধের দিক-নির্দেশনা হিসেবে স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধু সবকিছু বুঝে-সুঝেই অত্যন্ত কৌশলগত কারণে সেদিন সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণাটি উচ্চারণ করেননি। তবে পরোক্ষভাবে এই ভাষণই স্বাধীনতার ঘোষণার ইঙ্গিত ছিল। 

অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জনগণের নিকট আমরা কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর দুঃসাহসিক নেতৃত্ব, বিচক্ষণতা এবং আন্তরিকতাকে ধন্যবাদ জানাতে হয়। তিনি যে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে যে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন তা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ভারতের প্রত্যক্ষ সমর্থন ও সামরিক সহযোগীতা ছাড়া এতদ্রুত বাংলাদেশ স্বাধীন করা সম্ভবপর হতো না।
অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন নেপালের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও শিক্ষাবিদ ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, নেসার আহমদ ভূইয়া, আল মামুন আলাউদ্দিন, মোঃ শাহজাহান, আবুল কালাম আজাদ, নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

আনন্দ কুমার সেন, ঢাকা ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*