দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈশাখী উৎসব পালন, ওয়াও বাংলাদেশ!

Spread the love
  •  
  •  
  •   
  •   
  •  
বিডিনিউজ প্রতিদিনঃ এরকম প্রানের সম্মেলন আর কবে ঘটেছিল মনে পড়ে? না আসলেই মনে পড়ছে না! তবে হ্যা, গতবারেও বাংলাদেশ কালচারাল এসোসিয়েসন ইন কোরিয়ার বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটিতেও বাঙ্গালীর এরকম উপস্থিতি চোখে পরেছিল, কিন্তু এবারে আরো অন্যরকম আরো বেশি কিছু। আজ সেই সেখানেই বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন কোরিয়া (বিসিকে) ও বাংলাদেশ কালচারাল এসোসিয়েশন ইন কোরিয়া  যৌথভাবে পালন করলো বাংলা বর্ষবরন অনুষ্ঠান “এসো হে বৈশাখ-১৪২৬”। দক্ষিন কোরিয়ার রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র সিউল ষ্টেশন সংলংগ্ন রোজ গার্ডেনে এই আয়োজনে,  দক্ষিন কোরিয়ায় বসবসারত বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ ছাড়াও অসংখ্য বিদেশী নাগরিক অংশগ্রহন করে।
আজ ১৪ এপ্রিল, রবিবার ছুটির দিন থাকায় অনুষ্ঠানটিতে যেন মানুষের ঢল নেমে এসেছিল। আয়োজকদের আন্তরিকতা ও ঐকান্তিক চেষ্টা- সমগ্র অনুষ্ঠানটিতে চোখে পড়েছে। কোরিয়াতে বসবাসরত বাংলাদেশীদের মধ্যও যে সাংস্কৃতিক চর্চার অভাব নেই সেটাই বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে এই অনুষ্ঠান। সে হোক গান কিংবা নাচ কিংবা বাঁশি। একের পর এক উপস্থাপন, রঙিন পোশাক আর দর্শকদের উপচে পড়া উৎসাহ উদ্দীপনায় বিদেশিরাও ভেসে গিয়েছিল। তাদের মুখে থেকে থেকেই বেড়িয়ে পরছিল একটি শব্দ ‘ওয়াও বাংলাদেশ’।

অনুষ্ঠানের শিল্পী বৃন্দ।

এই কিচ্ছুক্ষন আগেই বৃষ্টি হচ্ছিল, আয়োজকদের কপালে একটুখানি চিন্তার রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এত কষ্টের আয়োজন ভেস্তে যাবেনা তো ? কিন্তু দুপুর ২ টায় খোলা আকাশের নিচে যখন অনুষ্ঠান শুরু হোল, মেঘটেগ পালিয়ে গিয়ে ভাললাগা হাল্কা শীতযুক্ত বাতাস আর উঠি উঠি লালচে রোদ্দুর সমস্ত সিউলের আকাশ জুড়ে। এক মুহুর্তেই খুশীর ঝিলিক সবার মনে। আয়োজকদের পান্তা ইলিশ, মুড়ি, ভর্তা, রসগোল্লা নানারকম পিঠাপুলি খেয়ে নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে গেল সাবাই। না দেখলে বোঝা যাবে না কত সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিটি মানুষ। একটি পাত্র হাতে নিয়ে লাইন ধরে বেড়িয়ে যেতে যেতেই তার খাবার পাত্রটি পান্তা-ভাত, ইলিশ ভাঁজা, কাচা মরিচ, নানারকম ভর্তা, মুড়িতে ভরিয়ে দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। কোন কোলাহল নেই – কেউ বসে কেউ দাড়িয়ে খেয়ে ময়লা পাত্র ও উচ্ছিষ্ট খাবার নিজেই নির্দিস্ট স্থানে রেখে দিচ্ছেন। নিজেদের এমন আচরনে আমি নিজেই বলে উঠলাম – ‘ওয়াও বাংলাদেশ’ !
খাবারের পর সবাই শ্রেনিবদ্ধভাবে দাড়িয়ে গেল র‍্যালির জন্য। নানা ধরণের রঙিন পোষাকে সুসজ্জিত র‍্যালিটি বিশেষ করে শাড়ি আর পাঞ্জাবীতে সিউলের রাস্তায় এক ছোট্ট বাংলাদেশ যেন হেঁটে চলেছে। হাতে রংবেরঙের ফেস্টুন আর দেশি গানের সুরে বিদেশীদের কাছে এক আশ্চার্য দৃশ্য হয়ে ধরা দিয়েছে মনে হোল। তারা অবাক হয়ে দাড়িয়ে দেখছে। কেউ কেউ আবার একদম মিশে গিয়ে র‍্যালির সাথে নেচে নেচে এগিয়ে যেতে থাকলো কিছুক্ষন। র‍্যালি শেষে শুরু হয় সাংকৃতিক অনুষ্ঠান। কয়েকজন বিদেশিকেও বাংলা গানের সুরে বাংলাদেশিদের সাথে নাচে অংশগ্রহন করেতে দেখা যায় যা অনুষ্ঠানটিকে অন্যরকম এক বৈচিত্রায় ভরিয়ে দেয়। কোন ভাড়া করা শিল্পী এখানে ছিল না। এখানে যারা অংশগ্রহণ করেছে তারা কেউ ছাত্র, কেউ শিক্ষক, কেউ চাকুরীজীবী কেউ ঘরণী। তাই তাদের বন্ধু বান্ধব, পরিবার পরিজনদের সাথে উপস্থিত সবার শুধু মনে হয়েছিল এতো আমিই গাইছি, এতো  আমিই  নাচছি – এই সম্পৃক্ততাই  এই আয়োজনকে অন্য এক মাত্রা এনেদিয়েছিল যা শুধু উপস্থিত সবাই অনুধাবন করেতে পেরেছিল।
যারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিল তাদের সবার নাম উল্লেখ করা উচিৎ কিন্তু আমার কাছে সব নেই। যাদের নাম মনে করতে পারছি তারা হলো তামিম, কথা, হৃদি, তানিসা, হিমু, রতন, ইমতিয়াজ আহমেদ, কেশব অধিকারী, সুমি বড়ুয়া, তাস্মিয়া, রাইফা। দুঃখ প্রকাশ করছি তাদের কাছে যাদের নাম উল্লেখ করতে পারিনি।
আয়োজকদের কিছু নাম উল্লেখ না করলেই নয়। বিসিকের সভাপতি আরশাদ আলম ভিকি ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম শিশির,বাংলাদেশ কালচারাল এসোসিয়েশন ইন কোরিয়ার সভাপতি মাহাবুব আলম ও সাধারণ সম্পাদক মিস কথা, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিকি রানা, আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল করিম সুইট, যুগ্ম সম্পাদক মামুন মিয়াজি, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন,যুবলীগের সভাপতি জুয়েল আহমেদ মোল্লা,  বিসিকের সিনিয়র নির্বাহি সদস্য মো: হিরন,পলাশ,জাহাজ্ঞির আলম, মাসুদ রানা, রুবেল ও কালচারাল এসোসিয়েশন এর সদস্যবৃন্দ সহ অনেকে।
প্রধান অতিথি ছিলেন দক্ষিন কোরিয়া আওয়ামীলীগের সভাপতি শিমুল হাসান এক্সেল ও বিশেষ অতিথি ছিলেন রুহুল আমিন প্রথম সচিব ও দুতালয় প্রধান বাংলাদেশ দূতাবাস দক্ষিণ কোরিয়া ।
এছাড়াও নাম না জানা অনেকেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে এমন একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপন করেছেন যার জন্যই এই বিদেশে নব বর্ষের এই উদযাপনকে শুধু একটি শব্দেই চিৎকার করে বলা যেতে পারে ‘ওয়াও বাংলাদেশ’ !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*