সিউলে বৈশাখী উৎসব ১৪ই এপ্রিল রবিবার

 

বিশেষ প্রতিনিধি, দক্ষিণ কোরিয়াঃ ঋতু পরিক্রমায় পুরনো বছর শেষ হয়ে যায়। সেইসঙ্গে শেষ হয় বিগত দিনের জীর্ণতা ও ক্লান্তি। চৈত্রের শেষে বিদায় নেয় বসন্ত। আসে পহেলা বৈশাখ, আসে নববর্ষের শুভক্ষণ। আমাদের জাতীয় জীবনে আসে উৎসবের আমেজ। এই দিনে উপহার পাওয়া, নতুন পোশাকে সাজে অনেকেই। একে অন্যকে শুভেচ্ছা জানায়।

নববর্ষ ব্যবসায়ীদের জন্য নিয়ে আসে শুভ হালখাতা অনুষ্ঠান‌। তারা তাদের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আলোকমালা দিয়ে সাজান, সুগন্ধি দিয়ে সুবাসিত করে রাখেন। নববর্ষের চেতনা হচ্ছে আনন্দলোকে সমবেত হয়ে সকলের আনন্দ যুক্ত হওয়া। নববর্ষ তাই আমাদের জাতীয় জীবনে ও সংস্কৃতিতে এক আনন্দঘন শুভদিন। এদিন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্নে নতুন দিনের সূর্যকে চারপাশের প্রকৃতিকে চেনা অচেনা সব মানুষকে মনে হয় একান্ত আপন। নতুন আশা নতুন উদ্দীপনা নতুন প্রেরণার পাশাপাশি নববর্ষ বয়ে আনে নতুন সাধনার প্রতিশ্রুতি। তাইতো এই দিনটি সকলেই আনন্দঘন মুহুর্তে উদযাপন করেন।

এই অন্যবদ্য মিলন মেলার উৎসবের ভেতর দিয়ে আমাদের জীবনে বিস্তার ঘটে প্রীতিলতার শুভেচ্ছা, শুভ সংকল্প এবং সকলকে এগিয়ে চলার প্রেরণা, নতুন ভাবে আমাদের উজ্জীবিত করে। তাই তো কবির ভাষায় বলতে হয়-

“হে চির নতুন আজি এ দিনের প্রথম গানে

জীবন আমার উঠুক বিকশি তোমার গানে”

এ দিনটিতে আমাদের নাগরিক জীবনে নববর্ষের নানা অনুষ্ঠান ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন লক্ষ করা যায়। বড় বড় শহর ও গ্রামে নানাভাবে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় নববর্ষ। চিত্র প্রদর্শনী কিংবা বই মেলা, আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, নানা রকম খেলাধুলার আয়োজন ও হয়ে থাকে বিভিন্ন জায়গায়। ঢাকার বাংলা একাডেমিতে বইমেলা এবং রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বেজে উঠে রবি ঠাকুরের সেই চিরচেনা সুর

“এসো হে বৈশাখ, এসো এসো… “

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা জাতি নানা ভাবে নববর্ষ উদযাপন করে থাকে। বাঙালি, ইরানি, চিনা, কোরিয়ান, জাপানি, ইংরেজি ও ফরাসি সবাই পালন করে নিজ নিজ নববর্ষের উৎসব। জাতি ভেদে যেভাবেই উদযাপন করা হোক না কেনো নববর্ষের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ উৎসব। নববর্ষের প্রত্যাশায় পুরনো দিনের জীর্ণ ক্লান্ত দিনগুলোর অবসান হোক। জীবন শুরু হোক নতুন স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই, নতুন প্রত্যাশা নিয়ে হতাশা থেকে মুক্তি, মনের কালিমা লেপন হোক মুক্তির জন্য। তাইতো কবির কন্ঠে বলতে হয়-

“নিশি অবসান, ঐ পুরাতন বর্ষ হল গত

আমি আজি ধূলিতলে এ জীর্ণ জীবন করিলাম নত।

বন্ধু হও শত্রু হও, যেখানে যে কেহ রও,

ক্ষমা করো আজিকার মতো

নুরাতন বছরের সাথে

পুরাতন পরাধ যত”।

তারই রেশ ধরে প্রবাসীদের যান্ত্রিক জীবনে একটুখানি স্বস্তির প্রয়াস জোগাতে আগামী ১৪ই এপ্রিল রবিবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের রোজ গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাঙ্গালী ঐতিহ্যের মিলন মেলা বৈশাখী উৎসব।

জানতে চাইলে আয়োজক কমিটি বলেন- এবারের মেলার ভিন্নতা হচ্ছে, দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসীদের প্রিয় কয়েকটি সংগঠন যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করতে যাচ্ছি। এছাড়াও এখন থেকে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন কোরিয়া(বিসিকে) ও বাংলাদেশ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন ইন কোরিয়া যৌথভাবে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় তুলে ধরতে কাজ করবে। গত ১৭-০৩-২০১৯ইং তারিখে আমাদের মধ্যে একটি অংশীদারি চুক্তি সম্পন্ন হয়। গত বছর বাংলাদেশ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন ইন কোরিয়া এককভাবে অনুষ্ঠানটি উদযাপন করলেও এবার সাথে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন কোরিয়া(বিসিকে) এবং প্রচারনা সহায়তায় বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ইন কোরিয়া(বিএসএকে)। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে থাকছে- সিউল গ্লোবাল সেন্টার, সিউল সিটি কর্পোরেশন এবং হানা মাল্টিকালচারাল সেন্টার দারিনা। বৈশাখী উৎসবটি দুপুর ২ ঘটিকায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈশাখী উৎসবে যা যা থাকছেঃ মঙ্গল শোভাযাত্রা, মেহেদীর আলপনা, ফেস পেইন্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সবশেষে হরেক রকম মজাদার বাঙালি খাবার।

স্থানঃ서울로 7017 [1 Mallidong 1(il)-ga, Jung-gu, Seoul]

যেভাবে যাবেনঃ লাইন নাম্বার ১, সিউল ষ্টেশন, এক্সিট-২, সিউল রোজ গার্ডেন।

আরো বিস্তারিত জানতে নিচে ফেসবুক পেইজের লিংক ঃ

https://www.facebook.com/bacakgroup/

https://www.facebook.com/bangladeshcommunitykorea/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*