বিএসএকে নিয়ে শামীম আহমদের আবেগঘন অনুভুতি *বন্ধু কিনি বিএসএকের বাজার থেকে*।

*বন্ধু কিনি বিএসএকের বাজার থেকে*

বাংলাদেশী স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন ইন কোরিয়া সংক্ষেপে বিএসএকে একটি নাম নয় একটি পরিবার। যেন প্রবাশের বুকে খুঁজে পাওয়া স্বদেশের বন্ধু বাজার। আমি বন্ধু কিনি, আমার ভালোবাসা লাগে। হ্যাঁ আমি ভালোবাসা চাই শুধু ভালোবাসা চাই। বিএসএকে এর সাথে আমার পথ চলা আজ থেকে প্রায় তিন বছর পূর্বে কোনো এক শীতকালীন মিলনমেলায়। সিউল ইউথ সেন্টার এর আয়োজন দিয়ে যেই বিএসএকে কে চিনতে পেরেছি কখনো ভাবিনি এই বিএসএকে কে এতো ভালোবেসে ফেলবো একদিন।

বিএসএকে থেকে পাওয়া বিভিন্ন সম্মাননা

দক্ষিণ কোরিয়ায় আগমনের মুল উদ্দেশ্য পড়াশুনা থেকে নিজেকে একটু পূর্ণঃ উজ্জীবিত করার জন্য কেন জানি সব সময় ব্যাকুল ছিলাম বছরে বিএসএকে এর দুইটি আয়োজনে নিজেকে নিয়োজিত করতে। একদিন দূতাবাসের এক আয়োজন ” বায়ান্ন থেকে একাত্ত” এ দর্শক সারী থেকে ডাক পেয়ে কিছু বক্তব্য দেয়ার সুযোগ আসে। সেই থেকে আজ অবদী প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে কত বক বক করেছি। কখন সাংস্কৃতিক আয়োজন “ঢাকঢোল” এর উপস্থাপন হয়ে, কখনো “বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা” শীর্ষক সেমিনারের প্যানেল বক্তা হয়ে, আমার কখনো কিছু কবিতার আবৃত্তি দিয়ে । আহহ , কতো কিছুরই না স্মৃতি বিজড়িত এই বিএসএকে।

এক্সিকিউটিভ সদস্য হিসেবে এই সংগঠনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারায় কৃতজ্ঞ তোমার প্রতি হে প্রিয় বিএসএকে। তোমার ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছি বহুবার। তোমার হাত ধরে ঘুরে এসেছি সেই জেজু থেকে দেজন, কখনো আবার সরাখসাং পাহাড়ের বিশালতায় নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি। এবার স্বাথ পেলাম pro-democracy এর শহর গোয়াংজুর। মাইক্রোফোন হাতে কত কথা বলেছি এই বাজারে। সবচেয়ে বড় যা পেয়েছি এই বাজারে তা হলো ভালোবাসা আর মমতায় পরিপূর্ণ বেশ কিছু প্রিয় মুখ। আজ আমার সাথে বিদায় পথ যাত্রায় সামিল ছিলেন বিএসএকে এর যে উজ্জ্বল নক্ষত্র জনাব ড. মনিরুজ্জামান শব্দ (মনির) ভাই, মূলত: মনির ভাই এর আমন্ত্রণেই আমার বিএসএকেতে যোগদান।

আমার সাথে KGSP স্কলার হিসেবে পড়তে আসা সাইফুল ইসলাম ফারুকী ভাই এর পরামর্শেই মূলতঃ আমি ডাক পেয়েছিলাম এই সংগঠনটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে। এরপর একে একে কানন ভাই, ফেরদৌস ভাই, দ্বীনি সিয়াম ভাইটি, মনসুর ভাই, ছোট বোন নিশু, আমার প্রথম উপস্থাপনায় আমার সহযোদ্ধা তানিশা, বাশুরিয়া শরৎ দা, প্রিয় সব ছোট ভাই, ফয়শাল, রাফি, নাছিম (Sooo), রাব্বানী, নিয়ন, বান্না, কনক, আবু, মিলন, পিকেসহ আরো বহু বহু বন্ধু কিনেছি এই বাজারে আমি। আজ আমার ঝুলিতে বন্ধু বোঝাই বাড়ি ফেরার পালা। আমার মনটাও মনির ভাই এর মতোই ভারাক্রান্তই ছিলো, কিন্তু জল আনতে পারিনি, কারন হাল ধরে ছিলাম এই সমাপনী অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার। নিজের বিদায়ের আয়োজন করতে যেন নিজেই ব্যস্ত ।

আমার এই দীর্ঘ পথচলায় যদি কোনো বন্ধু জনের দুঃখের কারন হয়ে থাকি ক্ষমা করবেন। শুধু ভালোবাসাটা স্মরণে রাখার অনুরোধ রইলো প্রিয় বন্ধুরা। সফলতার পথে কিছু অপূরণতাও ছিলো। অসমাপ্ত গঠনতন্ত্র, রেজিস্ট্রানে ব্যর্থতা ও ছোটখাটো ভুল ভ্রান্তির দ্বায় স্বীকার করছি। মানুষ মাত্রই ভূল। ক্ষমা করে দিও প্রিয় বন্ধুরা। বিএসএকে তুমি ভালো থেকো অনন্তকাল, আগলে রেখো তোমার ছায়াতলে আশ্রিত আমার সকল অনাগত বন্ধুকে। ওরা সব মাতৃভূমি ছেড়ে পড়াশুনার তাগিদে আজ এই সুদূর পরবাসে বড্ড এটা। ওদের বন্ধু চাই, প্রিয় বন্ধু, যে তার কষ্ট লাঘবে পাশে থাকবে, যে কিনা মুছে দেবে চোখের জল, যে দেবে উন্নত আশ্বাস । আমার মতো সাধারন শামীমকে তুমি যে ভালোবাসা দিয়েছো, দিয়েছো যে সম্মান তার মূল পরিশোধের ক্ষমতা আমার নেই। ভালোবাসাই আমার সম্বল, শুধু সেটুকুই নিয়ো প্রিয় বিএসএকে । তুমি ভালো থেকো। যেনে রেখো কান্না আমারো পায়, চাপা কান্না……..

এবার তাহলে বিদায়! দেখা হবে অন্য কোনো বাজারে ইনশাআল্লাহ …কারন বন্ধু কেনা আমার নেশা, জীবনের শেষ বিন্দু অবদী সেই সওদা করার তৌফিক যেন পাই। আমিনবন্ধু কিনি বিএসএকের বাজার থেকে।

শামীম আহমেদ, গবেষক, দক্ষিণ কোরিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*