বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে“ভাষা-জাতীয়তাবাদী চেতনা-জাতিসত্তা- জাতিরাষ্ট্র” শীর্ষক আলোচনা

একুশে ফেব্রূয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস – ২০১৯ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে আজ, রাজধানীর সিরডাপ( এটিএম শামসুল হক মিলনায়তন ) “ভাষা-জাতীয়তাবাদী চেতনা-জাতিসত্তা- জাতিরাষ্ট্র” শীর্ষক আলোচনা সভা সংগঠনের সাধারন সম্পাদক , ডা: এস এ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও,ট্রেজারার,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যলয়
ড.আশফাক হোসেন । মূল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. আ আ ম.স আরেফিন সিদ্দিক , সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মাহবুবউদ্দিন আহম্মেদ বীরবিক্রম ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক নেপালের সাবেক রাষ্ট্রদূত, ড.মো:আলউদ্দিন, উপাচার্য, মাওলানা ভাসানী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ড.মো: ফরহাদ হোসেন ,সাবেক প্রোভিসি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, এজেএম শফিউল আলম ভূঁইয়া, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ,টেলিভিশন এন্ড ফিল্ম অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় , ড.মো: আবুল কাশেম , ড.মো: সাদেকুল আরেফিন অধ্যাপক সমাজকর্ম বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ড মো: ফিরোজ আহম্মেদ ,অধ্যাপক ,ফার্মেসী বিভাগ , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,
ড.খাদেমূল ইসলাম নয়ন, অধ্যাপক সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ড. রতন সিদ্দিকী সদস্য, জাতীয় পাঠ্য পুস্তক প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটি প্রমুখ। বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় মতিউর রহমান লাল্টুর সঞ্চালনায় ড. আ আ ম.স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, জাতি হিসেবে বাঙালির যে সাংগ্রামী চেতনা গড়ে উঠেছে তার মূলে রয়েছে এদেশের ভাঙ্গাগড়া ও অবস্থানের অবদান। অবদান রয়েছে এদেশের জলবায়ু, আবহাওয়া এবং বাংলা অঞ্চলের রোমাঞ্চকর ইতিহাসের।

সে ইতিহাস বাঙালি জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, নানা ঘাত প্রতিঘাতের ইতিহাস। কখনো বা সে ইতিহাস উপনিবেশবাদ (বৃটিশ) ,নয়া উপনিবেশবাদ (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীন উপনিবেশবাদ (পাকিস্তান) বিরোধী মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস । আর ইতিহাসের পাতায়, সংগ্রামে সংগ্রামে পরিচয় গড়ে উঠেছে বাঙালি জাতির । বিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদী নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃেত্ব এবং তাঁর মহান আদর্শে ১৯৭১সালে যে সংগ্রামী ইতিহাস রুপান্তরিত হয় স্বাধীতার জীবনপন যুদ্ধে। উপাচার্য ড. আলাউদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালি জাতির ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে তিনি মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন। বাংলা ভাষা অতি প্রাচীন ভাষা। বিভিন্ন সময়ে রুপান্তরিত হয়ে বর্তমান রুপ ধারণ করেছে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতি এবং সমৃদ্ধি সাধনে এদেশের লেখক , কবি- সাহিত্যিকগণ অসামান্য অবদান রেখেছেন।  তবুও বারবার বাংলা ভাষার উপর আঘাত এসেছে ।

এর মূল কারণ ছিল পরাধীনতার শৃংঙ্খলে আবদ্ধ থাকা। আমাদের মাতৃভাষার উপর  ১৯৫২ এর ২১ শে ফেব্রæয়ারী যে আঘাত হানা হয় মূলতঃ এখান থেকেই বাঙালি অধিকার সচেতন হয় ও বাঙলির জাতীর চেতনার বিকাশ ঘটে এবং বাঙালি তার ভাষা ,সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় ঐক্যবন্ধ হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সুযোগ্য নেতৃত্বে যে স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু হয়, তার স্বার্থক পরিণতি আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ ।একথা সত্য বঙ্গবন্ধরু জন্ম না হলে আমরা স্বাধীনতা পেতাম কিনা ,সন্দেহ রয়েছে। বঙ্গবন্ধুই সেই মহান নেতা; যিনি অধিকার হারা বাঙালির মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বিশ্বসভায় রবীন্দ্রনাথের পরে বাঙালি কে নতুন করে পরিপূর্ণ ভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনিই বাঙালি জাতির ¯্রষ্টা ও মুক্তিদাতা। সুতরাং বঙ্গবন্ধু চিরদিন আমাদের জাতিসত্বায় ও স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য স্মরণীয়-বরণীয় হয়ে থাকবেন ।সভাপতির বক্তব্য ডাঃ এস এ মালেক বলেন,বাঙালির জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন অনেকেই দেখেছেন, কিন্তু স্বার্থকতা পাননি।

এই অঞ্চলের মানুষের স্বাধীনতার আকা্ধংসঢ়;ঙ্খকা অপূর্ণতা থেকে যায়। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে শাসন-শোষণ করেছে। বাঙালির আধিকার প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক পরিচয় এবং স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন, জাতির ত্রানকর্তা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। বঙ্গবন্ধুই একমাত্র জাতীয়তাবাদী নেতা, যিনি একটি ঘুমন্ত জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে, ঐক্যবদ্ধ করে এবং আন্দোলন- সংগ্রামের মাধ্যমে বাঙালির জন্য পৃথক বাসস্থান বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। এই জন্য বঙ্গবন্ধু জাতির জনক , সেরা বাঙালি । বাঙালি জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদান চির স্মরণীয়।তাঁর
অমরর্কীতি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। এই অবদানের জন্য বাঙালি জাতি চিরদিন তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন -বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মতিন ভূঁইয়া, ড. লিয়াকত হোসেন মোড়ল ,মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, খন্দকার নজরুল ইসলাম, মোবারক হেসোন , নাসির উদ্দিন, ডা: েেশখ আব্দুল্লাহ আল মামুন মুন্না, ডা:সাখাওয়াত হোসেন খোকন, তারেক ইমতিয়াজ খান , ড. জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল , কৃষিবিদ মো: আজহারুল ইসলাম , জাহাঙ্গীর আলম, ,রতন কুন্ডু সহ সহ দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রাতিষ্ঠানিক কমিটি ও জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ।

আনন্দ কুমার ,ঢাকা থেকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*