কেন জনগণ নৌকায় ভোট দিবে- শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আনন্দ কুমার সেন: আজ ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ইং সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এক আলোচনা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আলাউদ্দিন, ওয়াসার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. হাফিজ মোঃ হাসান বাবু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাদেকুল আরেফিন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোঃ বাহাদুর, কৃষি ব্যাংকের ডিএমডি ড. মোঃ লিয়াকত হোসেন মোড়লসহ দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মতিউর রহমান লাল্টু’র সঞ্চালনায় ঢাকা বিশ্বদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সাংবিধানিক ধারা বজায় রাখতে হলে জাতীয় নির্বাচন প্রয়োজন। এদেশে নির্বাচন নিয়ে বারবার চক্রান্ত হয়েছে। স্বৈরশাসকরা নির্বাচনের নামে প্রহসন করেছেন। ফলে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি ও অবাধ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।’

উপাচার্য ড. মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন, ‘একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি নির্বাচন কমিশন নিয়েছেন। সকল রাজনৈতিক দল ও জোট নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। কিছু বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ছাড়া নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে। জনগণ তাদের সুচিন্তিত মতামত ভোটাধিকার মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকেই দেবেন সেই প্রত্যাশা করছি।’
উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং উন্নয়ন কর্মকান্ড গতিশীল রাখতে নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল দলকে রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখা এবং গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকা দরকার। উন্নয়ন তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা একান্ত জরুরী। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পার হলেও আমাদের গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। স্বাধীন জাতি হিসেবে অবশ্যই আমাদের চরম ব্যর্থতা, বারবার হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি আমাদের সফলতার পথকে রুদ্ধ করেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে দেশের সকল অর্জন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। বিশ্বসভায় বাংলাদেশ আজ উন্নতশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে হলে আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির বিজয় অনিবার্য।’ দেশবাসীকে নৌকায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে ৪র্থবারের মতো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার অনুরোধ জানান।

উপাচার্য মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট গণতন্ত্রের শত্রু। এই অপশক্তি দেশের উন্নয়ন চায় না, মঙ্গল হোক তা চায় না, এদের কারণে আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব আজও হুমকীর সম্মুখীন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে নৌকায় ভোট দিন এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হোক, সেইজন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির কাজ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ডাঃ এস এ মালেক বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ বিশ্বনেত্রী। তিনি সবসময় গণতান্ত্রিক পরিবেশে বজায় থাকুক, দেশ সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে যাক, জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হোক, উন্নত জীবন পাক সেই চিন্তা-চেতনা নিয়েই সরকার পরিচালনা করেন। তিনি আজ মানবতার মা। সৎ, যোগ্য ও ক্ষমতাবান নারীর মর্যাদা পেয়েছেন শেখ হাসিনা। দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হলে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে নির্বাচনে পরাজিত করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ মহাজোটকে বিজয়ী করুন। উন্নয়নের গণতন্ত্র, শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র। দেশের জন্য শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই। এদেশে আজ প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের মানুষ কিছু পায়, দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি, পরিবর্তন হয় এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে। অপরদিকে, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসা মানেই জঙ্গীবাদ, জ্বালাও-পোড়াও, সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর ব্যর্থতা। এজন্য জনগণের নিকট আহ্বান জানান, আপনার মূল্যবান ভোট ভেবে-চিন্তে প্রয়োগ করুন। দুর্নীতির নেত্রী ও মৌলবাদী শক্তিকে বর্জন করুন। উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে শেখ হাসিনার পাশে থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*