আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ধর্মীয় সম্পদায়ের করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

Spread the love
  •  
  •  
  •   
  •   
  •  

আনন্দ কুমার সেন :

আজ সকালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ এর আহŸায়ক পীযূস বন্দোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনাওে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিষ্ট সুভাষ সিংহ রায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফীন সিদ্দিক, ইসলামিক
ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম মোহাম্মদ আফজাল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন, বৌদ্ধধর্ম যাজক শুদ্ধানন্দ্য মহাথীরো, বাংলাদেশের অডিটর এন্ড কন্ট্রোলার জেনারেল সাবেক মাসুদ আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি সংসদ আমেরিকা শাখার সভাপতি গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের সাবেক ডীন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক ও সহযোগী অধ্যাপক গণিত বিভাগ ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের চেয়ারম্যান ড. অরুন কুমার গোস্বামী, সৈয়দ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়–য়া, বিশিষ্ট সামরিক বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার, অধ্যাপক বিধান বড়–য়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশনের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক অশোক বড়–য়া, নাট্যব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী, হৃদরোগ ইনষ্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান, কবি আসাদ মান্নান, মার্টিন অধিকারী, কবি জাহিদ হায়দার, হিন্দু ধর্মীয় জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি গৌরাঙ্গ অধিকারী, অধ্যাপক বিধান বড়–য়া, অধ্যাপক অনুরাগ চাকমা, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মতিউর রহমান লাল্টু, বাংলাদেশ অনলাইন এ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়, ঢাকা মিডিয়া ক্লাবের প্রেসিডেন্ট অভি চৌধুরী, অধ্যাপক কালিদাস ভক্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হলের প্রভোষ্ট অধ্যাপক ড. অসীম সরকার,
আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সাধারণ সম্পাদক রোকন উদ্দিন পাঠান, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র মোঃ মনিরুজ্জামান জুয়েল এবং আনন্দ কুমার সেনসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফীন সিদ্দিক বলেন, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করছেন এবং মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। ইতিমধ্যেই সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নে কাজ করছে। সুষ্ঠু ও অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। আমরা চাই দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট উৎসব অনুষ্ঠিত হোক। মুক্তিযুদ্ধের
স্বúক্ষের শক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। আগামী সংসদ নির্বাচনে পুনরায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। এখানে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের কোন স্থান নেই। ইসলাম কখনো জঙ্গীবাদকে সমর্থন করে না। ইসলাম ধর্মের মূল বাণীই হচ্ছে সকলে মিলে-মিশে শান্তিতে বসবাস করা। কিন্তু মওদুদী জামায়াত ইসলামের ভুল ব্যাখা দিয়ে আমাদের সমাজে অশান্তির সৃষ্টি করছে। জাতিতে-জাতিতে, ধর্মে-ধর্মে, মানুষে- মানুষে হিংসা ও বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। এর থেকে সাবধান থাকতে হবে।

ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই। বিএনপি-জামায়াত জোট
একটা জগাখিচুড়ি জোট করেছে। তারা গণতন্ত্রের কথা বলে এ দেশে জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে এই অশুভ শক্তি দেশ ও জাতির জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ ভোটে বিজয়ী করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করতে হবে। বৌদ্ধ ধর্মযাজক শুদ্ধানন্দ্য মহাথীরো বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। হাজার বছর এই ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে সকল ধর্মের মানুষ একত্রে বসবাস করে আসছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যে রাষ্ট্রের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে ও শান্তিতে বসবাস করবে। সভাপতির বক্তব্যে পীযূস বন্দোপাধ্যায় বলেন, শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। সচেতন জনগোষ্ঠীকেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। কারণ আগামী নির্বাচন নিয়ে দেশী-বিদেশী চক্রান্ত শুরু হয়েছে। পাকিস্তানী
গোয়েন্দা সংস্থাও বাংলাদেশে এখন তৎপর রয়েছে। আমাদের উচিত হবে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে কাজ করা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*