আল্লায় জানে কে কখন যায় চলে..

ওমর ফারুক হিমেল।

দেশের স্বর্ণোজ্জ্বল গায়ক, জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী আইয়ুব বাচ্চু।চট্রগ্রাম তথা পুরো বাংলাদেশের আপামর মানুষের দিল ছুঁয়েছেন কিংবদন্তি এই ব্যান্ড সম্রাট। ব্যান্ড গানের জনপ্রিয়তার মূল আইকন বলা চলে, পুরো দেশে যে কয়জন শিল্পী ব্যান্ডকে জনপ্রিয়তার চূড়ায় নিয়েছেন তিনি তাদের একজন। বড় অসময়ে তিনি চলে গেলেন। বরেণ্য এই শিল্পী আধুনিক গান, ক্ল্যাসিক্যাল সংগীত দিয়ে কোটি শ্রোতার মণি কোঠায় স্থান করে নিয়েছেন, মুগ্ধ করেছেন নানা শ্রেনীর মানুষকে, বহু সিনেমার প্লেব্যাক করেছেন,কনসার্ট শেষে জাতীয় সংগীতের সুরে গান শেষ করতেন জনপ্রিয় গানের এই স্রষ্টা। বলাচলে ছোট কাল থেকেই স্বপ্ন বুনে ছিলেন হাজী কলোনীর বাউন্ডুলে রবিন, তথা লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চু। হাজী বাড়ি প কেউ গানের সঙ্গে না থাকলেও শৈশব থেকেই গানের প্রতি তার প্রবল ঝোঁক ছিল। রক ষ্টার আইউব বাচ্চু শুনতেন পশিমা গান।বাংলাদেশের একমাত্র শিল্পী তিনি বিশ্ব সেরা পাঁচশত সেরা গিটারিস্টে রয়েছে এবির নাম। এক বাক্য সবাই স্বীকার করেন ব্যান্ড কিংবা গিটার- দুটোতেই তিনি ছিলেন অনবদ্য। চট্রগ্রামের আরেক গুণীশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎর মতে বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীত এগিয়ে নেয়ার অন্যতম অগ্রণী অগ্রপথিক। উন্মাতাল ভক্ত তার! রুপালি গিটার খ্যাত , ব্যান্ড সংগীতের মধ্যমণি রক আইউব বাচ্চু ৫৬ বছর বয়সে চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে।৪৫ বছর ধরে গানের জগতে এই রক লিজেন্ড।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বাচ্চু। গ্রামের বাড়ী পটিয়ায় বড় হয়েছেন পাথরঘাটায়। চট্রগ্রামের অলিগলিতে তার বেঁড়ে উঠা। কৈশোর আর তারুণ্যের ঝলমলে দিন পার করেছেন নিজের জন্মভূমি চট্রলায়। ছেলেবেলায় থেকেই স্যাটরিনার গান শুনতে শুনতে এই পথে আসা।প্রথম ব্যান্ড দল গঠন গোল্ডেন বয়েজ। ১৯৭৮ সালে পেশাদার শিল্পী হিসেবে আত্নপ্রকাশ,ছিলেন ফিলিংসে।প্রায়এক দশক ছিলেন।সোলসের পর ১৯৯১ সালে আইয়ুব বাচ্চু গড়ে তোলেন নতুন ব্যান্ড এলআরবি। সঙ্গী হিসেবে ছিলেন ছিলেন জয়, স্বপন আর এসআই টুটুল।

শুরুতে এলআরবির পুরো নামটি ছিল লিটল রিভার ব্যান্ড, পরে তা বদলে নাম হয়- লাভ রানস ব্লান্ডস। বাচ্চুর সুখ, অভিমানী, ঘুমন্ত শহরে, স্বপ্ন, ফেরারী মনসহ প্রায় ১৪টি অ্যালবাম শ্রোতাদের সামনে ফোকাস করেছে এলআরবি। উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে সবে ক্লাস সেভেনে উঠেছেন। পরীক্ষার ফল খুব ভালো হওয়ায় কালো রঙের গিটার উপহার পেয়েছেন, সেই থেকেই শুরু জীবনের নতুন একটি অধ্যায়। গিটার ও গানের দারুণ মুন্সিয়ানা জয় করে নিলেন কোটি কোটি মানুষের মন। বলাবাহুল্য, আইয়ুব বাচ্চুর নতুন কিছু গানের শিরোনাম হচ্ছে ‘আল্লায় জানে কে কখন যায় চলে’, ‘কিছু মুহূর্ত’, ‘কেমন আছো নাগরিক সকাল’, ‘জলের কি দোষ’ ও ‘বাসি খবর’। সবগুলো গানেরই সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন আইয়ুব বাচ্চু। একটি গানের কথাও লিখেছেন তিনি।

লেখক: সাংবাদিক ওমর ফারুক হিমেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*