দক্ষিণ কোরিয়ায় শেখ হাসিনা’র জন্মদিন পালন

বিডিনিউজ প্রতিদিনঃ ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭২তম জন্মদিন। তিনি গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীবিধৌত টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বর্ণাঢ্য নানা কর্মসূচি। এছাড়া প্রবাসী আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি
 
দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সায়েরা খাতুনের অতি আদরের নাতনি শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে মধুমতি নদীর তীরবর্তী গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায়। শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা এবং শেখ রাসেলসহ তারা পাঁচ ভাই-বোন। বর্তমানে শেখ হাসিনা ও রেহানা ছাড়া কেউই জীবিত নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বাংলাদেশের ইতিহাসের কলঙ্কময় অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে পিতা বঙ্গবন্ধু এবং মাতা ফজিলাতুন্নেছাসহ সবাই ঘাতকদের হাতে নিহত হন।
 
শেখ হাসিনার শিক্ষা জীবন শুরু হয়েছিল টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে চলে আসেন। তখন পুরনো ঢাকার রজনী বোস লেনে ভাড়া বাসায় ওঠেন তারা।
শেখ হাসিনা ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ওই বছরই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আর ওই বছরেরই ১৭ মে দীর্ঘ ৬ বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সম্মানসূচক ডিগ্রি, পদক ও স্বীকৃতি দিয়ে শেখ হাসিনার অসামান্য অবদানকে সম্মানিত করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে—ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটি অব জাপানের সম্মানসূচক ডক্টরেট অব ল ডিগ্রি, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব আলবারটে ডান্ডি’র সম্মানসূচক ডক্টরেট অব ফিলোসফি ইন লিবারেল আর্ট, পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক দেশীকোত্তমা, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডক্টরেট অব লস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিজপোর্ট ইউনিভার্সিটির ডক্টর অব হিউম্যান লেটারস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডিগ্রি ডক্টরেট অব ল’স প্রদান, পল হারিস ফেলোশিপ দ্য রোটারি ইন্টারন্যাশনাল, ইউনেস্কোর হাউফুয়ট-বোনি শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮, এম কে গান্ধী পুরস্কার-১৯৯৮, মাদার তেরেসা পুরস্কার-১৯৯৮ এবং ২০০৬, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের র‌্যান্ডলফ ম্যাকন মহিলা কলেজের পার্ল এস বাক পুরস্কার-১৯৯৯, সিইআরইএস পদক-১৯৯৯, এমডিজি অর্জনের জন্য জাতিসংঘ পুরস্কার (শিশু মৃত্যু)-২০১০, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার-২০০৯, দক্ষিণ-দক্ষিণ পুরস্কার-২০১১, এমডিজি অর্জনের জন্য জাতিসংঘ পদক-২০১৩, পুরস্কার, রোটারি শান্তি পুরস্কার-২০১৩, শান্তি বৃক্ষ-২০১৪ আইসিটি স্থায়ী উন্নয়ন পুরস্কার-২০১৪, পৃথিবীর চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ-২০১৫, এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড-২০১৬ এবং প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন পদক-২০১৬।
 
এ ছাড়াও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিসহ জাতীয় জীবনের বহু ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন শেখ হাসিনা।

যথাযোগ্য মর্যাদায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের এক অভিজাত রেস্টুরেন্টে দক্ষিণ কোরিয়া আওয়ামী পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্ব মানবতার দিকপাল ডিজিটাল বাংলাদেশর স্বপ্নদ্রষ্টা নব পর্যায়ের বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের নির্মাতা। হিমাদ্রী শিখর সফলতার মূর্ত-স্মারক, উন্নয়নের কাণ্ডারি। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রূপকার। বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার বিশ্বস্ত ঠিকানা, বাঙালির বিশ্বজয়ের স্বপ্ন-সারথী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র ৭২তম জন্মদিন পালন করেন।

জন্মদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়া আওয়ামীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল করিম সুইট, কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও দক্ষিণ বঙ্গবন্ধু পরিষদের  সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক রানা, দক্ষিণ কোরিয়া আওয়ামীগের সহ সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম, শাহিন মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিয়াজী মামুন, জাহাঙ্গীর আলম, সম্পাদক শিশির আহমেদ, দক্ষিণ কোরিয়া আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জুয়েল আহমেদ মোল্লা প্রমূখ সহ অন্যান্য প্রবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*