দক্ষিণ কোরিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের জাতীয় শোক দিবস পালন

বিডিনিউজ প্রতিদিনঃ বাঙালি জীবনের শোক ও বেদনার মাস আগস্ট। ১৫ আগস্ট রক্তের আখরে লেখা একটি নিদারুণ মর্মন্তুদ দিন। ইতিহাসের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী।
১৯৭৫-এর এই কালো দিনটিতেই জাতি হারিয়েছে তার গর্ব, আবহমান বাংলা ও বাঙালির আরাধ্য পুরুষ, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শত্রুদের প্ররোচনায় মানবতার দুশমন, ঘৃণ্য ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে। কিছু বিশ্বাসঘাতক রাজনীতিকের চক্রান্ত এবং সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী সদস্যের নির্মম বুলেটের আঘাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সেদিন প্রাণ হারান তার প্রিয় সহধর্মিণী বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, সেনা কর্মকর্তা শেখ জামাল ও দশ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেল এবং নবপরিণীতা দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের ও কর্নেল জামিল।
ইতিহাসের এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সেদিন আরো প্রাণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ রিন্টু খানসহ অনেকে। এ কারণে বেদনাবিধুর ও কলঙ্কের কালিমায় কলুষিত বিভীষিকাময় ইতিহাসের এক ভয়ঙ্কর দিন। সেদিন আল্লাহ’র অসীম কৃপায় দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। সে সময় স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানিতে সন্তানসহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ রেহানাও সাথে ছিলেন বড় বোনের সঙ্গে।

যথাযোগ্য মর্যাদায় দক্ষিণ কোরিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী এবং ২১ আগস্ট নিহতের স্মরণে দোয়া মিলাদ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। গতরবিবার কোরিয়ার রাজধানী সিউলের কেন্দ্রীয় মসজিদ হল রুমে আয়োজন করা হয় এ আলোচনা সভার। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইতালি আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর ফরাজী। সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ কোরিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক রানা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে টেলিকনফারেন্সে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এস এ মালেক। তিনি জাতীয় শোক দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনাকে পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতায় আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।

দক্ষিণ কোরিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মোল্লার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন  দক্ষিণ কোরিয়া আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আরশাদ আলম ভিকি, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল করিম সুইট, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী  ইকরাম ফরাজী।

এ সময় প্রধান অতিথি জাহাঙ্গীর ফরাজী বলেন, পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন মনে প্রাণে মুজিব আদর্শ ধারণ করি। ব্যবসায়িক কাজে কোরিয়া আসলেও আগে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীর অনুষ্ঠান করা আমার নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু কোন দলের না বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ। যিনি জন্ম না নিলে স্বাধীন দেশ পেতাম না সেই জাতির পিতার যোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী বানাতে হলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশে এবং প্রবাসে সবাইকে কাজ করতে হবে। শেখ হাসিনার প্রয়োজনে নয় বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রয়োজনে তাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী দরকার।

অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, কোরিয়া আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহিন মিয়া, মনিরুজ্জামান মিলন, কাজী নজরুল ইসলাম, মোঃ শিপন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন মিয়াজী, উইজংবু শাখা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ মুন্না,বঙ্গবন্ধু পরিষদের সমাজ কল্যান বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করিম শিশির ,বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রাইসুল ইসলাম রাসেল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এইচ এম জাহাঙ্গীর, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহিম, দক্ষিণ কোরিয়া আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ হোসেন প্রমুখ ।

সভার শুরুতে নিহতের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*