দঃ কোরিয়ার গুয়াংজুতে পালিত হল বাংলা বর্ষবরণ

দঃ কোরিয়া থেকে হাসানুল বান্না, বিডিনিউজ প্রতিদিনঃ  পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজুতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হল বাংলা বর্ষবরণ। এই উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ায় গুয়াংজুর চোন্নাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, চোসান ইউনিভার্সিটি ও গুয়াংজু ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির  বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আয়োজনে গুয়াংজুতে  গতকাল নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী উৎযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ। গুয়াংজুর চোন্নাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রিসার্চ অ্যান্ড গ্লোবাল হাব সেন্টারে গত ১৫ এপ্রিল রবিবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কোরিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণারত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশার বাংলাদেশি প্রবাসীরা।

অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গুয়াংজু ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের প্রধান নির্বাহী (সিইও)  ও চোন্নাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক প্রফেসর শিন গিওংগু, টপ অর্থপেডিক হসপিটালের স্বনামধন্য চিকিৎসক ডাক্তার ইয়ু বহ পাক, কোরিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন গুয়াংজুর সভাপতি কিম ইয়ে শুক, চোন্নাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এলামনাই প্রেসিডেন্ট (Global diaspora studies )  ম্যুং দং হু সহ গুয়াংজু শহরের অনেক স্বনামধন্য ব্যাক্তিবর্গ।

চোন্নাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যোগাযোগ বিষয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী মোঃআশরাফুল আলম এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের সামনে পহেলা বৈশাখের নানা দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পহেলা বৈশাখ ও বাংলাদেশি সংস্কৃতির আগমন, ইতিহাস এবং ঐতিহ্য তুলে ধরতে পহেলা বৈশাখ এর উপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করেন চোসান ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের পি.এইচ.ডি শিক্ষার্থী মোঃ মারুফ খান।

সংস্কৃতি একটা দেশের অপরিহার্য অংশ বলে মন্তব্য করেন অতিথিবৃন্দ। বিদেশের মাটিতে বাংলাদিশ শিক্ষার্থীদের পহেলা বৈশাখ উৎযাপনের প্রয়াসকে ভূয়সি প্রশংসা করেন। গবেষণার পাশাপাশি নিজ দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ধরে রাখতে এটি সত্যিই প্রশংসনীয় ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বলে দাবি করেন। এছাড়াও তারা কোরিয়ান সংস্কৃতির কথা উল্লেখ্য করেন এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ ছিলো বাঙালি ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার পরিবেশন। বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সহযোগিতায় আয়োজন করেন হরেক পদের ভর্তা, বিখ্যাত ইলিশ ভাজা এবং পান্তা ভাত। খাবারের তালিকায় রস মালাই ছিলো অন্যতম আকর্ষণ। আগত অতিথিসহ সবাই একত্রে দুপুরের খাবার গ্রহন করেন। বাঙালি খাবারের বৈচিত্রতা ও স্বাদে বিদেশি অতিথিবৃন্দ অভিভূত হন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চোসান ইউনিভার্সিটির রসায়ন বিভাগের পি এইচ ডি শিক্ষার্থী মোঃ হাসানুল বান্না এবং একই ইউনিভার্সিটির আইটি বিভাগের পি এইচ ডি শিক্ষার্থী আরিফা ফেরদৌসি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। গান, কবিতা, অভিনয় এবং কৌতুকসহ মজার মজার সব খেলায় মেতে উঠেন উপস্থিত সকলে। অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথির পরিবেশিত কোরিয়ান গান সবাইকে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানে পহেলা বৈশাখ এর উপর কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন চোন্নাম ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট ডঃ মোঃ গোলাম হাফিজ শওকত সহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণারত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।

গোয়াংজু ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির পোস্ট ডক্টরাল রিসার্চার ডঃ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসনাত এর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে শেষ হয় দিনব্যাপী পালিত বৈশাখী অনুষ্ঠান। বাংলাদেশি সব সুস্বাদু খাবার এবং ঐতিহ্যবাহি পোশাকে সজ্জিত বাঙ্গালীদের পদচারনায় মুখরিত অনুষ্ঠানস্থলে সত্যি যেন পাওয়া গেল এক টুকরো বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*